আওয়ামী লীগকে ছাড়া অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোটের আশা করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রোববার রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন আশার কথা জানিয়েছেন।
এমআরডিআইয়ের সহযোগিতায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) সদস্যদের জন্য নির্বাচনবিষয়ক দুই দিনের এক কর্মশালার আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এবার নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আমার মনে হয়।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৬ কোটি ২১ লাখ ভোটারের মধ্যে ৫৫.৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এরপর ১৯৯৬ সালের (জুনের নির্বাচন) ভোটে ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪.৯৬ শতাংশ।
এরপর ২০০১ সালে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল, যা ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশে পৌঁছায়।
আওয়ামী লীগের গণভোটবিরোধী অবস্থানের মধ্যে সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নিয়ে সমস্যা যেটা ছিল জামায়াত, এনসিপি এবং আরও দু-একটি দল তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। একটু অস্পষ্টতা ছিল বিএনপিকে নিয়ে। আমার মনে হয়, সেই কনফিউশনটা দূর হয়ে গেছে। কারণ, গতকাল বিএনপির সভাপতি (চেয়ারপারসন) ‘হ্যাঁ’র পক্ষে জোরালোভাবে, শক্তভাবে বলেছেন।”
তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি মনে করি, মানুষ চারটা শর্ত পড়ে চিন্তা-ভাবনা করে ভোট দিতে যাবে না। ওই সময়ও নেই, সুযোগও নেই। আসলে তারা ভোট দিতে যাবে পার্টি লাইনে। প্রধান তিন চারটি দল সবাই কিন্তু ‘হ্যাঁ’র পক্ষে। কাজেই আমার মনে হয় না এটা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হবে।”
তবে কিছু মানুষ যে ভোট দিতে যাবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“এটাও ঠিক কিছু লোক ভোট দিতে যাবে না। এটা সব সময় হয়। প্রতি নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। এবার কি কিছু বেশি মানুষ ভোট দিতে না যাবে কি না এটা আমি বলতে পারবো না। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এবার নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আমার মনে হয়।”
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে ডিক্যাব টকে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।



