কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে বল প্রয়োগ করা হয়েছে বলে এক বিবৃতি জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর। ওই ঘটনায় পাঁচ সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলেও সংস্থাটির দাবি।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজ থেকে ওই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে সন্ধ্যায় মিছিল থেকে কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেয়।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় মিছিলটি বের করেছিল নুরুল ইসলাম নুরের গণ অধিকার পরিষদ।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে মব ভায়োলেন্স বা মব সন্ত্রাসের মতো ঘটনায় ‘নীরব দর্শকের ভূমিকা’ পালন করে আসা সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা শুক্রবার প্রথমবারের মতো লাঠিপেটা করেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের।
একদিন আগেই ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে ‘মব সন্ত্রাস’ চালিয়ে লাঞ্ছিত করা হয় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনকে।
ওই ঘটনায় মব সন্ত্রাসের হোতাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন কোনো ভূমিকা দেখা না গেলেও উল্টো লাঞ্ছিতদের আটক করে নিয়ে যান তারা।
অবশ্য সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তারা মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের নূর ছাড়াও জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।
একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়ত্ব পালন করেছে বলে সেনাবাহিনীর দাবি।
“ঘটনার শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য ও দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার অনুরোধ জানায়। তবে বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও কতিপয় নেতাকর্মীরা তা উপেক্ষা করে ‘মব ভায়োলেন্সের’ মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে। তারা সংগঠিতভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি করে। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায়।
“এছাড়াও বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ সমাধানের সকল চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করে। ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।”
এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, “সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর।”
এ সম্পর্কিত আরও খবর: