অনন্য আয়োজনে বার্গেনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

দুই দিনব্যাপী আয়োজেনের দ্বিতীয় দিন ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দুই দিনব্যাপী আয়োজেনের দ্বিতীয় দিন ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নরওয়ের বার্গেনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী অমর একুশের আয়োজন।

শুক্রবার বিকালে বার্গেনের সিটি সেন্টারের ফেস্টপ্লসেনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এসময় অংশগ্রহণকারীরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও অমর একুশের গান গেয়ে শোনান। শিশুদেরও তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে দেখা যায়।

বার্গেনে প্রথমবারের মতো নির্মাণ করা হয় এই অস্থায়ী শহীদ মিনার।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা সম্মিলিতভাবে এবারই প্রথম বার্গেন শহরে শহীদ মিনার স্থাপন করেছেন। এটি অস্থায়ী শহীদ মিনার হলেও স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

“এর মধ্য দিয়ে প্রবাসে থেকেও নিজের ভাষার প্রতি গভীর মমতার প্রকাশ ঘটাতে চেয়েছি আমরা। একইসঙ্গে শিশুদের তাদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়াসও ছিল,” যোগ করেন আয়োজকদের একজন।

একদিন পর ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শহরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের মূল পর্ব। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও অমর একুশের গানও পরিবেশন করা হয়।

শাহিনুল ইসলাম এবং আনতা শরিফের সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল দেশের গান, নাচ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন। 

এছাড়া ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের পরিবেশনার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মাঝে বিতরণ করা হয় উপহার, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাদিক হাসান, মোহাম্মদ আমিনুর রহমান দিপু, শাহিনুল ইসলাম, শাহনাজ সুলতানা বীনু, দেবাশীষ ঘোষ, নাঈম হোসাইন, আতিকুর রহমান, তাহমিনা তানজিম হাসান, ফিরোজা বেগম পান্না ও স্মৃতি রায়, এবং সহযোগিতায় ছিলেন বার্গেনে বসবাসরত বাংলাদেশীরা।

বাংলা ভাষাভাষী কমিউনিটির যেকোনো খবর ও ছবি সরাসরি পাঠাতে পারেন দ্য সান ২৪- এর ইমেইলে ([email protected])

আরও পড়ুন