আওয়ামী লীগবিহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৬০টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে ১৯৭ আসনে জয় নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি ও দলটির জোটসঙ্গীরা।
তারেক রহমানই সেই সরকারের নেতৃত্ব দেবেন এমনটি ধরে নিলে ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সর্বশেষ ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৫৮টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
এছাড়া অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চারটি আসনে জয় পেয়েছেন।
১৯৮৮ সালে সর্বশেষ এরশাদ জমানায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন কাজী জাফর আহমেদ। পরবর্তী ৩৫ বছরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই নেত্রী সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
মধ্যরাতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তুললেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির আসন সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে দলটির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত বিজয়ের আগে যেকোনো ধরনের বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের প্রেস উইং জানিয়েছে, নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে বাদজুমা সারা দেশে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ দোয়া করবে বিএনপি। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসানালয়ে প্রার্থনা করা হবে।
ভোটগ্রহণের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে নানা অনিয়মের ঘটনা নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মনে উৎকণ্ঠার জন্ম দিলেও বৃহস্পতিবার ভোরে ভোট শুরু হওয়ার পর বড় ধরনের গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকবে এমনটি ধারণা করা হয়েছিল। বিকেলে সর্বশেষ আপডেটে ভোট পড়ার হার ৪০ শতাংশের নিচে জানানো হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ভোটের উপস্থিতি নিয়ে আপডেট দেওয়া হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়, ভোটারের উপস্থিতি প্রদত্ত ভোটের ৬০.৬৯ শতাংশ।
অবশ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জনগণ প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।
দলটির সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে বলেছের, “সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬%। ভোটগ্রহণের উৎকর্ষ সময়ে জনগণের এই কম অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগবিহীন এই ভোট জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।”
এই নির্বাচনে শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করার ফলে বাকি ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ ও নারী প্রার্থী ৮৩ জন।
নারী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় ৬৩ এবং স্বতন্ত্র ছিলেন ২০ জন। বিপরীতে এবার মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ছিল ১ হাজার ২৩২ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।
নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে দায়িত্ব পালন করেছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ সম্পর্কিত আরও খবর:



