সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আওয়ামী লীগ কাউকে দেয়নি জানিয়ে দলটির অন্যতম মুখপাত্র এ আরাফাত বলেছেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাতেই আস্থা রাখেন।
সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার বক্তব্যকে ঘিরে ধারণকৃত বক্তৃতায় এমন মন্তব্য করলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী।
পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষায় আরেকটি যুদ্ধ হবে, এবং সেই যুদ্ধে তারা জঙ্গিতন্ত্রকে পরাজিত করবেন।
দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেছিলেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে এক বৈঠক থেকে ‘রিফাইনড’ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র বলেন, “সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কেন তারা রিফাইনড আওয়ামী লীগের কথা বলবে? আওয়ামী লীগ রিফাইন হবে নাকি হবে না সেটা আওয়ামী লীগ ডিসাইড করবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ডিসাইড করবে। সেনাবাহিনী আমাদের পক্ষ থেকে এই রিফাইন আওয়ামী লীগের নেগোসিয়েশন করার কেউ না। সেনাবাহিনীর এই ধরনের কথা বলার কোন কারণই নাই।”
“অন্য কোনো পক্ষের এই আলোচনা করার প্রয়োজন আছে বলেও আমরা মনে করি না। এবং এটা একেবারে অপ্রাসঙ্গিক।”
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার কোনো প্রশ্ন আসে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন মোহাম্মদ আরাফাত।
এ সম্পর্কে তার ভাষ্য, “আওয়ামী লীগ আছে, আওয়ামী লীগ ছিল, আওয়ামী লীগ থাকবে। এদেশের জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ।”
জুলাই-আগস্টের ঘটনা নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, জুলাই-আগস্টের ঘটনাগুলোকে ঘিরে বেশ কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এটা আমরা বুঝি এবং সেই জায়গা থেকে আমাদের নিজেদের ভেতরে খেদ আছে, রিগ্রেট আছে।
“আমরা নিজেদের মধ্যেও আমাদের ব্যর্থতা এবং আমাদের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু দেশের মানুষকে সত্যটা শেষমেশ আমাদের জানাতে হবে।”
প্রায় ৯মিনিট ১০ সেকেন্ডের ধারণকৃত অডিও বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
“তারা ৩২ নম্বর যে ভাঙলো, প্রতিটি ইটের হিসাব নেওয়া হবে। বাংলাদেশের মানুষই নেবে। আমরা থাকি বা না থাকি। মাথায় রাখতে হবে বাংলাদেশ কিন্তু স্বাধীন হয়েছে যে চেতনার উপর ভিত্তি করে সেটাকে কিন্তু তারা মুছে ফেলতে পারবে না।”
৫ আগস্টের হামলাকে পাকহানাদার বাহিনীর হামলার সঙ্গে তুলনা করেন মোহাম্মদ আরাফাত।
“আজকে পরিষ্কার হচ্ছে, যে আক্রমণ হয়েছিল গণভবনে এবং প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এবং বিভিন্ন জায়গায়; সেটি সেই ৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনীর যে আক্রমণ সেই আক্রমণের মতো আক্রমণ হয়েছিল।”
একাত্তরে পাকহানাদারদের হামলা রুখে দিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঝাপিয়ে পড়ার কথা স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, “সেই যুদ্ধ আমরা আবারো করব এবং যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো। আমি বলছি না যে ৭১ এর মতো লিটারালি বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ, কিন্তু এই যে লড়াই মানুষের মনস্তত্ব নিয়ে, ওদের যে খেলাধুলা মিথ্যাচার মানুষকে বিভ্রান্ত করা, সেইখানে মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে বের করে এনে সত্য উন্মোচন করা- সেই জায়গাতে সেই যুদ্ধ আমরা করব।”
তিনি বলেন, “সত্যের জয় হবে। বাংলাদেশের জয় হবে। এই জঙ্গিতন্ত্র জঙ্গিদের বিজয় হতে পারে না। শুধুমাত্র বাংলাদেশের মানুষের সাময়িকভাবে বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে তারা এই কাজগুলো করছে এবং সেইখানে বাংলাদেশের মানুষ যে বিভ্রান্ত হয়েছে সেই দোষ আমি এদেশের মানুষকে দিই না। সেই দোষের দায় আমি আমার ঘাড়ে নেই। আমাদের ঘাড়ে নেই। আমাদের বেশ কিছু ব্যর্থতা-ভুলের কারণে সেটি হয়েছে। সেটিকে শোধরানো দায়িত্ব।”
ভুলত্রুটি শুধরে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাবে- এমন মন্তব্য করে দলটির মুখপাত্র বলেন, “আগামী দিনে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপরে দাঁড়িয়ে তৈরি হতে হবে। গণতন্ত্র থাকতে হবে। এখানে আইনের শাসন থাকতে হবে। মানবাধিকার থাকতে হবে। ন্যায়বিচার থাকতে হবে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কোন কম্প্রমাইজ করবো না।”
এ সম্পর্কিত আরও খবর:
সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে মিথ্যাচার করছে ‘হাসনাতরা’: এ আরাফাত