থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ: এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধে বেবিচককে নির্দেশ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ফাইল ছবি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ সম্পর্কিত আর্থিক বিরোধ নিরসনে গঠিত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড কনসোর্টিয়ামকে ১০০০ কোটি টাকারও বেশি পাওনা পরিশোধের জন্য বেবিচককে নির্দেশ দিয়েছে।

গত সপ্তাহে ঢাকায় তিন সদস্যের এই আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড এই রায় দিয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেবিচক এবং এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক মতবিরোধ দূর করতেই এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছে, মূলত অডিট আপত্তির কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ না করে আটকে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “সময়ের সাথে সাথে এই পাওনা জমেছিল, কিন্তু অডিট আপত্তির কারণে আমরা পেমেন্ট দিচ্ছিলাম না। এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার জন্য বেবিচকের হাতে ২৮ দিন সময় আছে। যদি এই সময়ের মধ্যে আপত্তির সমাধান না হয়, তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক সালিশি পর্যায়ে চলে যাবে এবং তখন সালিশি আদালতের রায় মানা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে।”

কর্মকর্তারা আরও জানান, এই রায়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত জানানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জাপানের মিতসুবিশি কর্পোরেশন ও ফুজিতা কর্পোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি) গঠিত হয়েছিল। মূলত তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল এই কনসোর্টিয়ামের ওপর।

মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির বিচারকদের সমন্বয়ে গঠিত এই বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড উভয় পক্ষের আর্থিক দাবি ও পাল্টা দাবিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার পর এই রায় দেন।

এদিকে, গত ২০ জুলাই কনসোর্টিয়ামভুক্ত একটি দেশের রাষ্ট্রদূত এভিয়েশন উপদেষ্টাকে লেখা এক চিঠিতে জানান যে, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি মাইলফলক হলেও অমীমাংসিত আর্থিক সমস্যার কারণে বর্তমানে এটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কনসোর্টিয়ামের অন্যতম অংশীদার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি তাদের চুক্তিবদ্ধ সকল দায়িত্ব পালন করলেও এখনো পাওনার একটি বড় অংশ বুঝে পায়নি।

কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছিল। তবে বেবিচক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পেমেন্ট পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

রাষ্ট্রদূতের চিঠিতে আরও বলা হয়, নতুন টার্মিনালের জন্য সময়মতো অপারেটর নিয়োগ না করায় এডিসি কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে।

পৃথক এক বার্তায় অন্য একজন রাষ্ট্রদূতও বকেয়া বিল পরিশোধ না করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও বেবিচক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপনাটি বুঝে নেয়নি, যার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়ভার ঠিকাদারকে বহন করতে হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইনি পদক্ষেপ বা আন্তর্জাতিক সালিশির পথে হাঁটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads