বৈশ্বিক দুর্নীতির ধারণা সূচকে দ্বিতীয় স্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে ফিনল্যান্ড। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত সূচকে এ তথ্য জানানো হয়।
৮৮ স্কোর নিয়ে ফিনল্যান্ডের ওপরে রয়েছে নর্ডিক প্রতিবেশী দেশ ডেনমার্ক, যার স্কোর ৮৯। আর ৮৪ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।
ফিনল্যান্ডের স্কোর গত বছরের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই সূচকটি সরকারি খাতে দুর্নীতির ধারণাভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর তৈরি করা হয়। এখানে শূন্য স্কোর মানে অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ স্কোর মানে প্রায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ।
সূচকের অন্য প্রান্তে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা (১০), সোমালিয়া (৯) ও দক্ষিণ সুদান (৯)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই সূচক বিশ্বের ১৮২টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এতে বিশ্বব্যাংক, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, বেসরকারি ঝুঁকি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, থিঙ্কট্যাংকসহ ১৩টি বহিরাগত তথ্যসূত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, এই স্কোর সাধারণ মানুষের মতামতের নয়; বরং বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি বাড়ছে। ১০ বছর আগে ৮০-এর বেশি স্কোর পাওয়া ‘প্রায় দুর্নীতিমুক্ত’ দেশের সংখ্যা ছিল ১২টি। কিন্তু এবারের সূচকে এমন দেশের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচটিতে।
২০১২ সালের পর থেকে ৩১টি দেশ দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হলেও বাকি দেশগুলো এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এসব দেশে হয় দুর্নীতি স্থবির রয়েছে, নয়তো আরও বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক গড় স্কোর নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪২-এ। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দেশের স্কোর ৫০-এর নিচে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সূচকে দেশটি ২৯তম স্থানে রয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ৬৪ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। যদিও ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পূর্ণ প্রভাব এখনো সূচকে প্রতিফলিত হয়নি, তবুও স্বাধীন মতপ্রকাশকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার মতো পদক্ষেপ গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



