সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের জীবনাবসান

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী ও প্রবীণ আইনজীবী শফিক আহমেদ মারা গেছেন।

রোববার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

​বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার চূড়ান্ত করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল সময়ে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ের গুরুভার পড়েছিল এই প্রাজ্ঞ আইনজীবীর কাঁধে।

সেনাসমর্থিত সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কারান্তরীণ শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার লড়াইয়ে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।

​কথিত আছে পাঁচ বছর মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেননি, ওঠেননি বরাদ্দকৃত বাংলোতে। এমনকি বিদেশ বিভুঁইয়ে সাধারণ ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াত করতেন।

মন্ত্রী হয়েও বাসা থেকে টিফিন ক্যারিয়ারে করে দুপুরের খাবার সচিবালয়ে নিয়ে আসার বিরল দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন।

​মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা, ‘৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার যে আজন্ম লালিত স্বপ্ন তিনি দেখতেন, তা বাস্তবায়নে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন ব্যারিস্টার শফিক। এমনকি এই দাবিতে সোচ্চার হওয়ায় এক সময় তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

সহজ জীবন যাপন করা এই বর্ষিয়ান নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

দলটির ফেইসবুক পেজে এক শোক বার্তায় বলা হয়, তার মৃত্যুতে দেশের আইন অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। আইন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads