কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী রমেশ সেনের মৃত্যু, আওয়ামী লীগের দাবি ‘হত্যা’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন চিকিৎধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দিনাজপুর কারা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রমেশ চন্দ্র সেনের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। পাঁচবারের এই সংসদ সদস্য ২০০৯-২০১৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট আটক হলে কয়েকদফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছিল তাকে।

রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মায়ের নাম বালাশ্বরী সেন।

দিনাজপুর কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর কারাগারে আনার আগেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল ৯টায় হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

“পরে তার মৃত্যুর খবর পাই,” যোগ করেন তিনি।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুপম পাল সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে রমেশ চন্দ্র সেনকে ‘ব্রট ডেথ’ ঘোষণা করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী হেফাজতে মারা গেছেন বলে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে আসছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনেও সম্প্রতি বিষয়টি উঠে আসে। তারা বলছে, দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্বিচারে আটকে রাখা হয়েছে, যাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে কারা হেফাজতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

নূরুল মজিদ ২০২৪ সালের আগস্টে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সেসময় এনিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

শেখ হাসিনার বিবৃতি

এদিকে, রমেশ চন্দ্র সেনের প্রয়ানে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করেই চলেছে। রমেশ চন্দ্র সেনের হত্যা এই ধারাবাহিকতারই অংশ। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর দমন-পীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দলীয় সভানেত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, রমেশ চন্দ্র সেন আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ নেতা। তিনি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন। সত্যিকারের গণমানুষের নেতা। তাকে ভিত্তিহীন, ভুয়া ও মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। কারাগারে তিনি অসুস্থ হলেও ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

মির্জা ফখরুলের শোক

রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর পক্ষ থেকে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।

শোকবার্তায় বলা হয়, ‘ঠাকুরগাঁও- ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী , বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন আজ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক জানাচ্ছি। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার ঠাকুরগাঁও–১ থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads