ইসরায়ের সকল জিম্মিকে মুক্তির দিতে আগেরদিন হামাসকে সময় বেঁধে দিয়ে গাজায় ‘নরক গুলজার’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই হুমকির সঙ্গে যোগ হলো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও যোগমন্ত্রীর হুংকার।
নেতানিয়াহু হুমকি দিয়েছেন যুদ্ধবিরতি স্থগিত করবেন, দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারহি আহ্বান জানিয়েছেন হামাসের জন্য নরকের সব দরজা খুলে দেওয়ার।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শ্লোমো কারহি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বলেছেন, জবাবটা সেভাবেই দিতে হবে। মানবিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে; পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে এবং জিম্মিরা ফেরত না আসা পর্যন্ত পাশবিক ও চরম শক্তি খাটাতে হবে।”
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে জিম্মি মুক্তি স্থগিত করেছে হামাস।
এর জবাবে ট্রাম্প হামাসকে সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, যদি শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সমস্ত বন্দী ফেরত পাঠানো না হয়, আমি বলব, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করুন। সব কিছু উল্টে যাবে, খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
ইসরায়েলের মন্ত্রী এক্সে আরও লেখেন, “হামাসের জন্য নরকের সব দরজা খুলে দেওয়ার সময় এসেছে। এবার আমাদের বীর যোদ্ধাদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না।”
এদিকে শনিবার দুপুরের মধ্যে হামাস জিম্মিদের ফেরত না দিলে গাজায় যুদ্ধবিরতি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, শনিবার দুপুরের মধ্যে আটক জিম্মিদের ফেরত না দিলে হামাসকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত তাদের সেনাবাহিনী অভিযান অব্যাহত রাখবে।
১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৬ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে মোট ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার তিন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও জিম্মি মুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় হামাস।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে গাজায় ৪৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
অন্যদিকে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৩৯ জন।
তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান