বাংলাদেশে কট্টরপন্থিদের রোশে নারী ও সংখ্যালঘুরা: এইচআরডব্লিউ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে নারী, কন্যাশিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ।

বুধবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, এটি মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনেও নারীরা ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত।

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই।

অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্তমানে বিবেচিত জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীদের মধ্যে নেই কোনো নারী।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকার বিভাগের সিনিয়র সমন্বয়ক শুভজিৎ সাহার প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেমকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নারীদের অবাধ চলাফেরা ও সমাজে অংশগ্রহণ সীমিত করতে কিছু ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যে কারণে বেড়েছে সহিংসতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে কট্টরপন্থি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো লিঙ্গসমতা ও নারী অধিকারের উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। সেসময় এসব কর্মকাণ্ডকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছিল।

“এর পর থেকে নারী ও কন্যাশিশুরা মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, যা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে,” উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।  

ওই প্রতিবেদনে ডিসেম্বর মাসে ২৭ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কথাও তুলে ধরা হয়।

নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, চব্বিশের আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ সত্ত্বেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীরা ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত। আসন্ন নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলেই কোনো নারী প্রার্থী নেই। একজনও নারী নেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। 

দেশের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

সংস্থাটি বলছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা পালন করা জরুরি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads