ইরানের হামলায় আমিরাতে বাংলাদেশি নিহত, কুয়েতে আহত চারজন

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরব আমিরাতের স্থাপনা থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ফেইসবুক থেকে নেওয়া ছবি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরব আমিরাতের স্থাপনা থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ফেইসবুক থেকে নেওয়া ছবি

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন চারজন বাংলাদেশি।

শনিবার থেকে চালানো হামলায় রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এখনও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

রোববার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’ এ এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে নিহত ও আহত হওয়ার খবর দেয়।

এতে বলা হয়, ইরান থেকে আসা ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি ৩৫টি দেশের মধ্যে পড়ে ক্ষতি করেছে।

“এসব ঘটনায় পাকিস্তানি, নেপালি ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৮ জন। তারা- আমিরাত, বাংলাদেশ, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের নাগরিক।”

আরব আমিরাত প্রতিনিধি সেখানকার সবশেষ অবস্থার খবর তুলে ধরে বলেন, দেশটিতে বসবাসরত ১২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় শনিবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে বিকট আওয়াজে ইরানি ও মিসাইল প্রতিহতের শব্দে সবার মনে আতঙ্ক তৈরি হয়।

আবুধাবি নগরীর ঘনবসতি সম্পন্ন এলাকা, দূতাবাস এলাকাগুলোতে প্রবাসীদের উৎকণ্ঠিত চেহারা দেখা যায়। সবাই পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে খবরাখবর বিনিময়েও ব্যস্ত ছিলেন। আমিরাত কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল।

রোববার আবুধাবিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দুবাই ও উত্তর আমিরাতে প্রবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা ও উদ্বেগ থাকার খবর মিলেছে।

আমিরাতের জাতীয় জরুরি অবস্থা, সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা ও বার্তা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নাগরিকদের অবহিত করছে।

ইরানের পাল্টা হামলার দ্বিতীয় দিনে রোববার আমিরাতের বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করেছে, আটটি মিসাইল সমুদ্রে ভূপাতিত করেছে, দুটি ক্রুজ মিসাইল নিষ্ক্রিয় করেছে এবং ৩১১টি ড্রোন বাধা দিয়ে ভূপাতিত করেছে এবং ২১টি ড্রোন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এসব খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

সিএনএনকে মন্ত্রী বলেন, বাসিন্দারা যেসব বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছেন তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিযানের ফল।

এদিকে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের নিয়োগকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছে তারা যেন কর্মীদের খোলা জায়গায় বা উন্মুক্ত স্থানে উপস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি কাজ যেগুলোর জন্য শারীরিক উপস্থিতি প্রয়োজন, সেগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে।

এছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে রিমোট ওয়ার্ক (বাসা থেকে কাজ) বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ নির্দেশনা মঙ্গলবার পর্যন্ত কার্যকর হবে।

এদিকে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সহায়তার জন্য দূতাবাস ও কনস্যুলেটর উদ্যোগে হটলাইন খুলেছে, যেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের তাদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

কুয়েতে ৪ বাংলাদেশি আহত

এ হামলায় মোট আহত ৩২ জনের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও কোন দেশের নাগরিক তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পাল্টা হামলায় শনিবার হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

আহত বাংলাদেশিরা হলেন¬–ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমিনুল ইসলাম, পাবনার রকিবুল ইসলাম, নোয়াখালীর মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার দুলাল মিয়া।

শনিবার একজন বাংলাদেশি আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল দেশটিতে বাংলাদিশি দূতাবাস।

আহতদের খোঁজখবর নিতে রোববার ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে যান কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রদূত চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশি প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. হুসেন বলেন, আহতদের মধ্যে আমিনুলের আঘাত তুলনামূলক গুরুতর। তার পায়ে আঘাতের কারণে ‘স্কিন গ্রাফটিং’ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।

চিকিৎসকের বরাতে অন্য তিনজন ‘আশঙ্কামুক্ত’ হওয়ার তথ্য দেন তিনি।

আগের দিন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে একজন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন।

শনবিার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলার পরপরই সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে থাকেন। তখন ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

রোববার আহতদের দেখতে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আবদুল্লাহ আল-আহমদ আল-সাবাহ ফারওয়ানিয়া হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি আহত নাগরিক ও প্রবাসীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আহত ৩২ জনকে দ্রুত আল-আদান হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ১৫ জনকে জাবের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের আল-আদান হাসপাতালেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. আবদুল্লাহ আল-সানাদ বলেন, আহতদের শরীরে বুক, মাথা ও পেটে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভেঙে যাওয়ার ক্ষত রয়েছে। আল-আদান হাসপাতালে পাঁচজন রোগীর জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে একজনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads