জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ঐক্য ছেড়ে ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি ৩২ আসনে অন্যদের সমর্থন দেবে দলটি।
শুক্রবার ঢাকার পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া’ এবং ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া’র কারণে তাদের এমন সিদ্ধান্ত।
তার ওই ঘোষণা শোনার পর অনুসারীরা আনন্দে মেতে ওঠেন; বিভিন্ন স্লোগানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও দেখা যায় তাদের।
এর আগে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই ২৫৩ আসনে সমঝোতার কথা জানায় জামায়াতে ইসলামী। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার রাতের ওক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য চেয়ার রাখা হলেও দলটির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল- গড়ার আগেই ভাঙনের কবলে পড়তে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোট।

একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আমরা আজকে আপনাদের সামনে ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছে, এর মধ্যে আপিলে ২জন বাতিল হয়েছে; বাকি ২৬৮ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী এখনো পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাদেরকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি তারা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, একজনও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।”
তিনি বলেন, “আমরা যেহেতু এবাদতের রাজনীতি করি, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে প্রতারণা করতে পারি না। আমরা এদেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সাথে কিছুতেই প্রতারণা করতে পারি না।
“আমরা যেহেতু ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে কাজ করে আসছি—আমরা এ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না।”



