ইতালিতে ক্লাসের রচনায় নির্যাতনের কথা জানাল বাংলাদেশি কিশোরী

ওই বাংলাদেশি নারীকে নির্যাতনের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার খবর প্রকাশ করে লা রিপাবলিকা।
ওই বাংলাদেশি নারীকে নির্যাতনের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার খবর প্রকাশ করে লা রিপাবলিকা।

রোমের ওস্তিয়া এলাকায় একটি স্কুলে ইতালীয় ভাষার ক্লাসে রচনা লিখতে গিয়ে নিজের জীবনে ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুশাসনের নামে ‘নির্যাতনের’ কথা তুলে ধরেছে ১৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোরী। তার রচনার বিষয়বস্তু এতটাই মর্মান্তিক ছিল যে শেষমেশ তা গড়ায় আদালতে।

ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং কঠোর নিয়ম না মানায় নিজের মেয়েকে নির্যাতনের দায়ে ওই কিশোরীর ৪৪ বছর বয়সী মাকে দুই বছরের কারাদণ্ডের কথা শুনিয়েছে রোমের পিয়াজ্জালে ক্লোদিও (Piazzale Clodio) আদালত।

গত ১৬ মার্চ খবরটি প্রকাশ করে লা রিপাবলিকাসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় পত্রপত্রিকা, যা নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ইতালীয় ভাষার অ্যাসাইনমেন্টের জন্য সাদা খাতা পেয়ে চৌদ্দ বছর বয়সী ওই কিশোরী রচনার মাধ্যমে সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়। লেখার ভাঁজে ভাঁজে ওস্তিয়ার মিডল স্কুলের শিক্ষককে সে তার বাড়ির নির্যাতনের কথা জানায়।

ওই রচনায় সে জানায়, বোরকা পরার বাধ্যবাধকতার পাশাপাশ সহপাঠীদের সাথে মেলামেশায় বিধিনিষেধ, ধর্মীয় আইনের নামে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর নিয়মকানুন। এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতনের কথাও অকপটে লিখেছে ওই রচনায়।

ওস্টিয়ায় গত ১০ বছর ধরে বসবাস করছে ওই পরিবারটি। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বরের ঘটনা তুলে ধরে ওই কিশোরী বলেছে, তার পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিয়মকানুন মেনে না চললে তাকে চড়, ঘুষি এবং লাথি মেরে শাস্তি দেওয়া হতো।

সে জানিয়েছে, একবার তার মা তাকে ঝাড়ু দিয়ে এত জোরে আঘাত করেছিলেন যে তার মুখ থেকে রক্ত ​​বেরিয়ে গিয়েছিল।

এ অবস্থায় শারীরিক নির্যাতনের ভয়ে ওই কিশোরী সংসারের নানা কাজে সাহায্য করতে মনযোগী হয়ে ওঠে। বিশেষকরে রান্না করা, ঘর পরিষ্কারের মতো কাজ। সমবয়সীদের সঙ্গে মেলামেশাও কমিয়ে দেয়, বোরকা পড়া শুরু করে।

তার শিক্ষকদের সহযোগিতায় অভিযোগটি দায়ের করার পর মামলা আদালতে গড়ায়।

আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ওই কিশোরীর বাবাকে খালাস দিলেও দুর্ব্যবহারের জন্য তার মাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

তবে দুজনকেই জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে আদালত।

আদালতে, কিশোরীর বাবা-মা তাদের অনুশোচনা প্রকাশ করে যুক্তি দেন যে এই জবরদস্তি সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী পাওলো পালেস্কি রায়ের পর বলেছেন, “আমরা কিশোরীর বাবার খালাস এবং বিবাহে প্ররোচিত করার চেষ্টার অপরাধ থেকে দুজনের খালাসে সন্তুষ্ট। আর কিশোরীর মায়ের দণ্ডাদেশ বোঝার জন্য রায়ের কপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”

পিয়াজ্জালে ক্লোদিও আদালত কিশোরীর মাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিলেও একটি পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পন্ন করার শর্তে তার সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads