অভ্যুত্থানকারীরা সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে?

নিজেদের কার্যালয়ে এনসিপি’র সংবাদ সম্মেলন।
নিজেদের কার্যালয়ে এনসিপি’র সংবাদ সম্মেলন।

প্যারিস থেকে পিনাকী ভট্টাচার্য একটি ভিডিও শেয়ার দিয়েছেন শুক্রবার দুপুরে, ঢাকার উত্তরায় একটি কিছু তরুণ-যুবক হ্যান্ডমাইক নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন – ‘ওয়াকার না হাসনাত/হাসনাত, হাসনাত/কচুক্ষেত না রাজপথ/রাজপথ, রাজপথ’। সেই ভিডিওর ক্যাপশন তিনি দিয়েছেন – ‘উত্তরায় সাধারণ ছাত্র-জনতার মুখোমুখি সেনাবাহিনী’।

সাড়ে সাত মাস আগে ঘটনা ছিল পুরোপুরি উল্টো। জুলাই অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত লগ্নে সেনাবাহিনী তখন ‘দর্শকের ভূমিকায়’, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন, সেই ৫ আগস্ট শাহবাগে সেনাসদস্যদের আলিঙ্গনে বেঁধেছিল অভ্যুত্থানকারীরা।

তারপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর দিন যত গড়াচ্ছে, রাজনীতির চিত্র দিন দিনই পাল্টাচ্ছে। এই মাঠের বড় খেলোয়াড় আওয়ামী লীগ নেই, আরেক বড় খেলোয়াড় বিএনপি সদর্পে থাকলেও কী যেন একটা অস্বস্তি। নিষিদ্ধের খাঁড়া কাটিয়ে জামায়াতে ইসলামী ডালপালা মেলছে। নতুন জার্সিতে এই খেলায় নেমেছে অভ্যুত্থানকারী তরুণরা, নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে।

বাংলাদেশের রাজনীতির দাবায় আগে সামনে থেকে খেললেও এখন পেছনে থেকে খেলতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। কী কারণে তা সম্প্রতি স্পষ্ট হয়ে যায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের কথায়।

তিনি নিজের সংস্থার কার্যকারিতা প্রমাণে সম্প্রতি উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার যখন সেনা নামিয়েছিল, তখন তার সংস্থা সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিল এই বলে যে তাহলে শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে। সেই কথাতেই সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ হয়ে গিয়েছিল।

সেই সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানকে প্রতিপক্ষ হিসাবে চিহ্নিত করে তার অপসারণ এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শুক্রবার ঢাকার কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রবাসে থেকে আওয়ামী লীগ সরকার হটানোর আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে যাওয়া ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন ও কনক সরওয়ার।

তার ঠিক আগেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিবি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ তোলেন সেনাবাহিনী আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে চাইছে।

ফেইসবুকে তিনি একটি পোস্ট দেওয়ার পর তার আন্দোলনের সঙ্গী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একটি ভিডিও-ও শেয়ার দেন তিনি; যেখানে সজীব বলছিলেন, অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে মুহাম্মদ ইউনূসকে মানতে নারাজ ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার।

এই বিষয় নিয়ে টানা কয়েকটি পোস্ট দেন হাসনাত; সেই সঙ্গে এটাও বলেন- ‘মৃত্যু হলেও মানুষ জানুক কেন মারা গিয়েছি’। সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালে ওয়ালে ভাসতে থাকে হাসনাতের ছবি। সব সময় জার্সি পরে থাকা হাসনাতকে ‘ক্যাপ্টেন’ অভিহিত করে কার্ড বানিয়ে নেন তার সমর্থকরা।

এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টিও সংবাদ সম্মেলন করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে। আওয়ামী লীগ প্রশ্নে নরম করা সুর চড়িয়ে দেয় বিএনপিও। জামায়াতও বলতে থাকে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই।

তবে যাদের নিয়ে হঠাৎ এই মাতামাতি, সেই সেনাবাহিনী এই বিষয়ে নীরব। হাসনাত গুরুতর অভিযোগ তোলার পরও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

হাসনাতের বক্তব্যের পর বিবিসি বাংলা প্রতিক্রিয়া জানতে আইএসপিআরে যোগাযোগ করলেও তাদের বলা হয়, এনিয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো বক্তব্য নেই। এনসিপি সংবাদ সম্মেলনের পরও প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে বিফল হয় বিবিসি বাংলা।

গত ফেব্রুয়ারির শেষে দিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার কড়া ভাষায় রাজনীতিকদের হুঁশিয়ার করার পর থেকে তা নিয়ে চলছিল আলোচনা। তিনি তখন ‘ইনক্লুসিভ’ নির্বাচনের কথা বলেছিলেন, যা আওয়ামী লীগকে নিয়ে ভোট করা বলেই সবাই বুঝেছে।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান।

সেনাপ্রধান দেখা করে আসার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসও বৃহস্পতিবার যখন বললেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তারপরই ১১ মার্চের ঘটনাকে সামনে আনলেন হাসনাত।

তবে হাসনাত ও এনসিপির পদক্ষেপ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে সোশাল মিডিয়ায়। এতে নতুন সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন অনেকে।

জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ ফেইসবুকে লিখেছেন- “একটা ইঙ্গিতপূর্ণ ধোঁয়াশা কথায় দেশের গোটা রাজনীতি যেভাবে গরম হয়ে গেল, বা গরম করে ফেলা গেল— তা হতাশাজনক; আমাদের সকলকেই দুর্বল করে ফেললো সেইটা। কথাটার প্রেক্ষাপট কী, পলিটিকাল মেরিট কতখানি— তা যাচাই বাছাই ছাড়াই রাজনীতির মুখ্য আলাপ হয়ে গেল!

“হাসনাত না ওয়াকার— এই প্রশ্নের উদ্ভব একটা ডেন্জারাস গেম থিওরির অংশ। এই প্রশ্নের কিনারাতেই দাঁড়ানো রয়েছে গভীর এক খাদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে দাঁড়াবে, কোনো গোপন খেলা বা ওহী নাযিল হয়ে সেটা দাঁড়াবে না।”

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা দীপায়ন খিসার ধারণা, বেশি খেলতে গিয়ে ফাঁদে ধরা দিয়েছে অভ্যুত্থানের তরুণরা।

তিনি ফেইসবুকে লিখেছেন, “বাছারা মনে হয় সেনাবাহিনীর খেলাধুলায় ঠিকঠাক পা দিয়ে ফেলেছে। বাছারা আমার, খেলাধুলা করতে কিন্তু ভালো খেলোয়াড় হতে হয়। সেই সাথে দরকার দক্ষ কোচ।”

কী লিখেছেন হাসনাত, এনসিপি কী বলছে?

আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করে হাসনাত ফেইসবুক পোস্টটি দেয় বৃহস্পতিবার রাতে। তারা আগে থেকেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে।

হাসনাত লিখেছেন- “কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।”

১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায় সেনানিবাসে এক বৈঠকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয় দাবি করে তিনি লেখেন, “আমিসহ আরও দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর ২:৩০এ। আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়- ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে – তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।

“আমাদেরকে আরো বলা হয়-রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।”

তখনই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন জানিয়ে হাসনাত বলেন, “আমরা জানাই যে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন। এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।

“আলোচনার এক পর্যায় বলি- যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দিবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে- ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম এন্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ‘ইনক্লুসিভ’ ইলেকশন হবে না।’

“উত্তরে বলি, ‘ আওয়ামীলীগের সাথে কোন ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না।আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে’।”

পরে সভাটি অসমাপ্ত রেখেই চলে আসেন বলে জানান হাসনাত। নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোন সুযোগ নাই, বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ।

দিনভর এনিয়ে আলোচনার পর এরপর শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি। সেখানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে কি পারবে না, এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা বা প্রস্তাবনা দেওয়ার এখতিয়ার সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো সংস্থার নেই।”

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের ব্যাপারে এত সুস্পষ্ট আন্তর্জাতিক বক্তব্য থাকার পরও বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি অত্যন্ত নিন্দনীয়।”

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের এই বক্তব্যেরও নিন্দা জানান নাহিদ, যিনি দল গঠন করতে কিছু দিন আগেই অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলে তিনি বলেন, “গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিবাদের সকল সহযোগী ব্যক্তি ও সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে থাকা হাসনাতের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, তাকে সেনানিবাসে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, নাকি তিনি নিজেই গিয়েছিলেন?

হাসনাত তখন বলেন, “ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলার জন্য আমাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল।”

তবে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের কথা হলেও ১১ মার্চের সভার প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল বলে জানান তিনি।

“সেখানে অপরপ্রান্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। আমার স্ট্যাটাসে সব স্পষ্ট করা হয়েছে।”

যদিও হাসনাতের স্ট্যাটাসে নির্দিষ্ট কোনও পদধারী ব্যক্তির নাম বলা নেই। এনসিপিও এনিয়ে কিছু বলেনি।

তবে হাসনাতের শেয়ার করা আসিফ মাহমুদের ভিডিওতে বলা হয়, গত বছর অভ্যুত্থানের পর যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে তারা ইউনূসের নাম ঠিক করেন, তখন ব্যাপক বিরোধিতা করেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। শেষে হার মানলেও তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বুকে পাথর চাপা দিয়ে সিদ্ধান্তটি মেনে নিচ্ছি’।

কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে?

হাসনাতের কথায় চলছে নানা ধরনের আলোচনা। কেউ কেউ সাধুবাদ দিচ্ছেন তাকে। কেউ ভাবছেন এর মধ্যে রয়েছে দুরভিসন্ধি।

‘ক্যাপ্টেন’ হাসনাতের পক্ষে একটি বক্তব্য শেয়ার করছেন তার সমর্থকরা। সেখানে বলা হচ্ছে- “এই গেমে হাসনাত ভাই হাইরা যাবেন, আমি জানি। কাল থেকেই হাওয়া থেকে, আসমান থেকে দুর্নীতি বা নারী কেলেঙ্কারির নিউজ আসতে থাকবে। ফরম্যাট এক থাকবে। নিউজ এক থাকবে। খালি মিডিয়া আলাদা। বাট ফ্যাক্ট কী জানেন? যেই মিটিং থেকে উঠে আসছে, ঐটা এক্সেপ্ট করলেই ৫০০০ কোটির ফান্ড পাইয়া যাইতো। বোকা মানুষ। টাকাও ছাইড়া আসছে। এখন আবার ঐ দুর্নীতির নিউজেই ফাঁসবে। বাংলাদেশে এমনই হয় সাধারণত। আজ পর্যন্ত ঐ প্রেসক্রিপশনের বাইরে গিয়ে কেউ রাজনীতি করতে পারে নাই। হাসনাত পারলে ভালো। না পারলে ছেলেমেয়েদের আজকের এই গল্পটা শোনাবো আমি। শোনাবো আমাদের এক জার্সি পরা ক্যাপ্টেন ছিলো…..”

বিপরীতে তার বিরোধীদের ওয়ালে ওয়ালে ছড়াচ্ছে আরেকটি পোস্ট- “১১ই মার্চ বড় মাপের একটি টেন্ডারবাজির প্রমাণ হাতে পেয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ডিজিএফআই। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা তদন্তে ধরা পড়ে। ওই দিন ক্যান্টনমেন্টে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি বরং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

সেনা কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, জনগণ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে এবং এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সেনাবাহিনী আর তাদের রক্ষা করতে কোনো ধরনের সমর্থন দেবে না। এ হুঁশিয়ারির পর হাসনাত ও তার সহযোগীরা চাপে পড়ে যায়।

এ অবস্থায় নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতিকে আড়াল করতে এবং জনগণের সহানুভূতি পেতে এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর সাজানো কৌশল অনুযায়ী বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শুরু করে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। অথচ এই সেনাবাহিনীই গত ৭ মাস ধরে ইউনূসের গদি টিকিয়ে রেখেছে।”

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির মতানৈক্য অভ্যুত্থানের কিছু দিন পরই দেখা গিয়েছিল। পরে নানা বিষয়ে তাদের ফারাক আরও বাড়ে।

কিন্তু হাসনাতের বক্তব্যের পরপরই বিএনপির ফেইসবুক পেইজে তাদের নেতাদের পুরনো বক্তব্য পোস্ট করা হতে থাকে। যেখানে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার বিরোধিতা করছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের কয়েকটি বক্তব্য কার্ড বানিয়ে শেয়ার দেওয়া হয়। তার একটিতে লেখা ছিল- “আওয়ামী লীগ নামে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। সেই আওয়াজ আমরা ওঠাচ্ছি। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আ. লীগের সাংগঠনিকভাবে বিচার দাবি করছি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও শুক্রবার এক সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বলেন, “সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ হবে না, যাতে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পায়।”

বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের নেতারাও একই রকম কথা বলেন। তারা অবশ্য আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আগে থেকে বলে আসছিলেন।

এসব দেখে একজন ফেইসবুকে লিখেছেন- “এতদিন তারা ক্যান্টনমেন্টের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়নি, হাসনাত বলার পরই তারা সাহস পেয়েছে! এর মানে, এই জাতির অঘোষিত নেতা এখন হাসনাত! তিনিই পথপ্রদর্শক! বিএনপি-জামায়াতও তার নেতৃত্ব স্বীকার করে নিয়েছে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads