খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জড়ো হচ্ছেন মানুষজন।
মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জড়ো হচ্ছেন মানুষজন।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানুষের জনস্রোতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের সড়ক।

যতদূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে হাজির হয়েছেন কালো পোশাক বা কালো ব্যাজ পরে। অনেকের হাতে দলীয় পতাকা, খালেদা জিয়ার ছবি।

তবে এর বাইরেও শেষ বিদায় জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন সর্বস্তরের বহু সাধারণ মানুষ।

খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে রাখা হয়েছিল। বেলা ২টায় সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও জানাজা শুরু হয় ৩টায়।

জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক। আর সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রয়াতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করার জন্য তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢাকা তার লাশবাহী গাড়ি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে রওনা হয়। ওই গাড়ির সঙ্গে একটি বাসে ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে বিএনপি নেত্রীর কফিন এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ওই বাড়িতে নেওয়া হয়। পাঁচ দিন আগে লন্ডন থেকে ফিরে ওই বাড়িটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওঠেন তারেক রহমান।

মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত মঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কফিন রাখা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ২ জুন খালেদা জিয়ার স্বামী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজাও একই জায়গায় হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মানিক মিয়া এভিনিউতে।

তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি বুধবার সাধারণ ছুটি রয়েছে। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছেন ভারত, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা। 

জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে।

গত মাসের ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তার মৃত্যুর ঘোষণা আসে।

একানব্বইয়ের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর।

তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে দুই বার মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছিলেন। বেশিরভাগ দলের বর্জনের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও এক মাসেরও কম ছিল তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদকাল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads