বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলকে আইনি ও প্রশাসনিক কৌশলের মাধ্যমে মাঠের বাইরে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ (আইএসডি) আয়োজিত এক সংলাপে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উঠে এলে তিনি এর ঘোর বিরোধিতা করেন।
মাইকেল রুবিন বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলকে আইনি ও প্রশাসনিক কৌশলের মাধ্যমে মাঠের বাইরে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও গভীর সংকট সৃষ্টি করছে।”
তার ধারণা, আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মূল কারণ হলো একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক দলটিকে কোনোভাবেই পরাজিত করা যাবে না।
“রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালিয়ে স্বল্পমেয়াদে সুবিধা নেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেয়,“ যোগ করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। সভাপতিত্ব করেন আইএডির সভাপতি দস্তগীর জাহাঙ্গীর।
এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রদর্শন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বক্তব্য দেন ড. নুরুন নবী।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ড. দিলিপ নাথ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিরোধী মত দমনে মামলা, হয়রানি এবং ভয়ভীতির সংস্কৃতি বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতা, প্রশাসন এবং রাজপথ, সব ক্ষেত্রেই নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে।
তাদের মতে, বিরোধী মত দমনে মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।
বক্তারা নির্বাচনব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংলাপটি পরিচালনা করেন আইএসডির পরিচালক শাবান মাহমুদ এবং কার্যনির্বাহী পরিচালক শায়লা আহমেদ লোপা।
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন জামাল হাসান, গ্রেগ রাশফোর্ড, জিয়া করিম, আব্দুল কাদের মিয়া প্রমুখ। আইএসডির ভাইস প্রেসিডেন্ট এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন সবুজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংলাপ শেষ হয়।



