থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন প্রতিবেশী সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরমধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে.পি. অলি এবং মিয়ানমারের জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
এছাড়া নরেন্দ্র মোদী থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’ এই খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এই তিনটি বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
থাইল্যান্ডে দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ব্যাংককে পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ব্যাংকক যাওয়ার আগে মোদী বলেন, “আমি বিমসটেক দেশগুলোর নেতাদের সাথে দেখা করার এবং আমাদের জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আমাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হবে দুই নেতার মধ্যে প্রথম।
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে নয়াদিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ইউনূস দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশ এই অঞ্চলে সমুদ্রের “একমাত্র অভিভাবক”, কারণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল “স্থলবেষ্টিত”। ইউনূসের এই বক্তব্য নিয়ে ভারতে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ইউনূসের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সাথেও সাক্ষাৎ করবেন নরেন্দ্র মোদী। এটি হবে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মোদীর দ্বিতীয় বৈঠক। রাজতন্ত্র-পন্থী বিক্ষোভের কারণে অলি এখন চাপে রয়েছেন।
অলি এখনও ভারত সফর করেননি। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চার দিনের জন্য চীন সফর করেছিলেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দেখাও করেন।
ঐতিহ্য ভেঙে ইউনূস এবং অলি উভয়ই ভারতের আগে চীন সফর করেছেন।
শুক্রবার মোদির তৃতীয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি মিয়ানমারের জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং সাথে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর জান্তা দেশটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মিয়ানমারে বর্তমানে গৃহযুদ্ধ চলছে।
থাইল্যান্ড সফর শেষে মোদী তিন দিনের সফরে শ্রীলঙ্কা যাবেন।