সেনাবাহিনীতে আরও রদবদল: কিউএমজি ফয়জুরকে এনডিসি প্রধান হিসেবে বদলি

কয়েক দিনের ব্যবধানে সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আবারও ব্যাপক রদবদল এনেছে তারেক রহমানের সরকার।
কয়েক দিনের ব্যবধানে সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আবারও ব্যাপক রদবদল এনেছে তারেক রহমানের সরকার।

কয়েক দিন আগে উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার আবারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল করেছে।

কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমানকে ঢাকাভিত্তিক ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এর কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্বল্প সময়ের জন্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বলয়ের বাইরে অন্য একটি বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে যারা পরিচিত, ফয়জুর রহমান সেই কয়েকজন জেনারেলের একজন।

বর্তমান এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাহীনুল হক, যিনি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার কথা, তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও পাঁচজন মেজর জেনারেলকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বা গৌণ পদে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসিম পারভেজ। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (মোফা) বদলি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বিদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত কর্মরত থাকবেন।

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদ, যিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও এরিয়া কমান্ডার ছিলেন, তিনি নতুন অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

তিনি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। হাকিমুজ্জামান এমআইএসটি-এর নতুন কমান্ড্যান্ট হিসেবে যোগ দেবেন।

রংপুরভিত্তিক ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ঢাকার লজ এরিয়ার দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রো-যুক্তরাষ্ট্র ও প্রো-পাকিস্তানপন্থী জেনারেলদের উপস্থিতির কারণে অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন সেনাপ্রধান।

এদের মধ্যে ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। তাকে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যেখানে বিদেশে কোনো দায়িত্ব না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষমাণ থাকবেন। তার অবসর গ্রহণের নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর।

তিনি তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) খলিলুর রহমানের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে খলিলুর রহমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিতর্কিত “মানবিক করিডর” উদ্যোগের প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন খলিলুর রহমান, যা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানের সমর্থনপুষ্ট ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads