মিয়ানমারে গত শুক্রবার হওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় চার হাজার মানুষ। এ ছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছে প্রায় পৌনে তিনশ’ জন।
দেশটির ক্ষমতায় থাকা সামরিক জান্তার দেওয়া ঘোষণার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। ভূমিকম্পে এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পাঁচদিনের শোক পালন করছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারে গত শুক্রবার ১২ মিনিটের ব্যবধানে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭ ও ৬ দশমিক ৪ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনটি স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে অনুভূত হয়, যার উৎস ছিল মিয়ানমারের সাগাইং শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হওয়ার ১২ মিনিট বাদে দ্বিতীয় কম্পনটি অনুভূত হয়।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের দুই দফার ভূমিকম্পে দেশজুড়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬ জনের মৃত্যু বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ জন। এ ছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২৭০ জনের মতো।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারের জন্য বিশ্বের কাছে ৮০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
মিয়ানমারে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় চীনসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারীরা যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে চীনের একটি উদ্ধারকারী দল সোমবার মান্দালয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে। ভূমিকম্পে উৎসস্থলের সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ায় মান্দালয়েই ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
এদিকে, ভূমিকম্পে হতাহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে মিয়ানমার। দেশটির সামরিক জান্তা জানিয়েছে, শোক পালনের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের যে যেখানে রয়েছে, তাদের সেখানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার মিয়ানমারে হওয়ায় দুই দফার ভূমিকম্প থাইল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত ২০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটিয়ে থাইল্যান্ডের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে ভূমিকম্পের প্রভাবে ব্যাংককে ধসে পড়া নির্মাণধীন ৩০ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে।
শুক্রবার ভূমিকম্পের সময় নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবনটি ধসে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ১২ জন নিহত হয়।
ব্যাংককের গভর্নর জানিয়েছেন, বহুতল ভবনের এই ধ্বংসস্তূপে ৭০ জনেরও বেশি চাপা পড়ে আছে বলে তারা ধারণা করছেন। ভূমিকম্পের পর তিনদিন অতিবাহিত হওয়ায় সেখানে এখন কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন তিনি।