মারামারির পর অবরুদ্ধ, বরিশালে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করল নাহিদকে

বরিশাল ক্লাবে বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মারামারি বাঁধলে সভাস্থল ছাড়ছিলেন নাহিদ ইসলাম, কিন্তু তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল।
বরিশাল ক্লাবে বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মারামারি বাঁধলে সভাস্থল ছাড়ছিলেন নাহিদ ইসলাম, কিন্তু তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল।

জুলাই আন্দোলনে নিহত একজনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ের ধর্ষিত হওয়ার খবর পেয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পটুয়াখালী গিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এরপর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক। কিন্তু সেখানে বাধে দুই পক্ষে হাতাহাতি। তাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া নাহিদকে উদ্ধারে যেতে হয় পুলিশকে।

 বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যার পর বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে নাহিদ মারামারির মধ্যে পড়েন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। ওই ক্লাবেই সংবাদ সম্মেলনের পর মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

টিবিএস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহায়তায় মিলনায়তন থেকে বের হন নাহিদ।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে নাগরিক কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছিল। তখন নাহিদ সভাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে একপক্ষ তার গাড়ি আটকে দেয়।

গত বছর শেখ হাসিনা সরকারকে হটানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা যে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি গঠন করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করে তার আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়েছেন নাহিদ।

বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী ও বরিশাল সফরে তার সঙ্গে ছিলেন নাগরিক পাটির মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মুজাহিদুল ইসলাম, নতুন ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব জাহিদ আহসান প্রমুখ।

বরিশাল ক্লাবে বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মারামারি দেখতে হয় নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির নেতাদের।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনের পর বরিশাল ক্লাবের দোতলায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভা শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর শুরু হয় হট্টগোল। এসময় সভাস্থলে ঢোকে শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ। তারা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলা এবং বৈঠকের দাবি জানান। উপস্থিত নেতাদেনর হস্তক্ষেপে ওই অংশকে শান্ত হলে কর্মসূচি শেষে নাহিদ চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে তারা তাকে ঘিরে ধরেন। এরপর আবার তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সভাকক্ষে। এ সময় মিলনায়তনে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায় দুটি পক্ষ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতিও হয়।

টিবিএস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইফতারের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা ও মহানগর কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন নাহিদ। এ সময় বরিশাল মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ ও জেলা কমিটির সদস্য সচিব এস এম ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলেন সাধারণ কর্মীরা। একপর্যায়ে মতবিনিময় সভা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং তর্কাতর্কি থেকে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

“একপর্যায়ে নাহিদ দোতলা থেকে নিচে নামার চেষ্টা করলে সংগঠনের একাংশের কর্মীরা বরিশাল ক্লাবের মূল গেট আটকে রেখে স্লোগান দিতে থাকেন। উপস্থিত অনেকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন।”

বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান টিবিএসকে বলেন, “আমাদের টহল টিম বরিশাল ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় ছিল। হট্টগোল শুনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাবের মূল ফটক বন্ধ করে রেখেছেন কিছু নেতাকর্মী। পরে পুলিশ গিয়ে গেট খুলে দিলে নাহিদ ইসলামকে বহনকারী গাড়িসহ মোট তিনটি গাড়ি নিরাপদে বেরিয়ে যায়।”

সেখানে থাকা বিক্ষুব্ধ কর্মী হৃদয় টিবিএসকে বলেন, “বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্ব স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সংগঠন চালাচ্ছে। আমরা আমাদের অভিযোগ দলীয় প্রধানের কাছে জানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বাধা দেওয়া হয়। তাই আমরা গেট আটকে রাখি এবং দাবি জানাই যে নাহিদ ভাই আমাদের কথা শুনে তারপর চলে যাবেন।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর কমিটির নেতা জোবায়ের কাইয়ূম টিবিএসকে বলেন, “শহিদুল ইসলাম শাহেদ ভাই ও ওয়াহিদুর রহমান ভাই নিজেদের মতো করে সংগঠন চালান। কমিটির অন্য সদস্যরা কোনো সুবিধা পান না। আমরা যারা সাধারণ, তারা সবসময় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করি, অন্যায়ের আশ্রয় নেব না। তাই প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

এদিকে শহিদুল ইসলাম শাহেদ অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একদল অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছিল। তারাই পরিকল্পিতভাবে নাহিদ ইসলামকে অপমান করেছে।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসররা আমাদের কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আজকের এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিকল্পনা করেই তারা আজ এই অনুষ্ঠান বানচালের জন্য এখানে এসেছিল।”

এই মারামারি নিয়ে নাহিদ কিংবা এনসিপির কোনও নেতা কোনও বক্তব্য দিতে চাননি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কেউও মুখ খোলেননি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads