এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ‘ডোমিনিকার নাগরিক’, আদালতে রিট

সোশাল মিডিয়ায় নাহিদের তথ্য ও ছবি সম্বলিত ডোমিনিকার পাসপোর্টের এই পাতাটি ঘুরছে।
সোশাল মিডিয়ায় নাহিদের তথ্য ও ছবি সম্বলিত ডোমিনিকার পাসপোর্টের এই পাতাটি ঘুরছে।

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত জোটের মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একটি রিট হয়েছে।

সোমবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ এ রিট দায়ের করেন। রিটে সিইসি, সচিব, রিটার্নিং অফিসার এবং নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ডোমিনিকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে।

রিটকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ মজনু জানিয়েছেন, একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামিম আহমেদ রোববার ওই রিট পিটিশন দায়ের করেছেন।

“তিনি ওনার (নাহিদ) বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করেছেন যে, নাহিদ ইসলাম একজন দ্বৈত নাগরিক, যিনি এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। তিনি উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে রাতারাতি ডমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন

“তবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ-২ এর (গ) লঙ্ঘন করে তিনি তা নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করেছেন। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের অযোগ্য।”

ঢাকা-১১ আসনটি গুলশান ও সবুজবাগ এলাকার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের তিন জন ভোটার রয়েছেন।

একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে এর আগে হাইকোর্টে প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছিলেন নাহিদ। তবে তা খারিজ হলে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত পুনরায় আবেদন করেন এনসিপি আহ্বায়ক।

এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, স্বতন্ত্র কহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।

ডোমিনিকার নাগরিক হতে করণীয়

ডোমিনিকা ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র, যার সরকারি নাম কমনওয়েল্থ অফ ডোমিনিকা। ক্যারিবীয় সাগরে গুয়াডেলুপ ও মার্টিনিক দ্বীপের মাঝামাঝি এই দেশটির অবস্থান। জনসংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার, রাজধানী রোজো।

স্বশরীরে না গিয়েওে বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব গ্রহণের পথ খোলা রেখেছে ডোমিনিকা সরকার। যে প্রোগ্রামের আওতায় ডোমিনিকার নাগরিকত্ব নেওয়া যায় সেটি সিটিজেন বাই ইনভেস্টমেন্ট বা সংক্ষেপে সিবিআই নামে পরিচিত।

এই প্রোগ্রামে আবেদনকারীকে সরকার অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দুটি বিনিয়োগের পথ খোলা রয়েছে রয়েছে। প্রথমটি হলো সরকারের ইকনমিক ডাইভারসিফিকেশন ফান্ড বা ইডিএফ-এ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অনুদান দেওয়া, যা একক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সাধারণত ১ লাখ মার্কিন ডলার থেকে শুরু হয় এবং পরিবার অন্তর্ভুক্ত করলে পরিমাণ বাড়ে, যা অফেরতযোগ্য।

দ্বিতীয় পথটি হলো সরকার অনুমোদিত রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে কমপক্ষে ২ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা, যা নির্দিষ্ট সময় ধরে রাখতে হয় এবং পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে বিক্রি করা যায়।

আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট, জন্ম সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, আয়ের প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হয়। এরপর সরকার তথ্য যাচাই করে প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

অনুমোদন পাওয়ার পর নির্ধারিত বিনিয়োগ বা অনুদানের অর্থ জমা করলে নাগরিকত্ব সনদ ইস্যু করা হয় এবং পরবর্তীতে পাসপোর্ট প্রদান করা হয়।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসের মতো সময় লাগে, আবেদনকারীকে ডোমিনিকায় থাকারও প্রয়োজন হয় না।

ডোমিনিকার নাগরিকত্বের কিছু উল্লেখযোগ্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে, বহু দেশে ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ, দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি এবং সেখানে বসবাস বাধ্যতামূলক না হওয়া।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads