সপ্তাহ পার হতেই আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নেপাল। গত এক সপ্তাহ ধরে একের পর এক ভূমিকম্পে এরই মধ্যে নেপালে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়িয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির বরাতে বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে- যা অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
অগভীর গভীরতার ভূকম্পন সাধারণত স্থলভাগে বেশি কম্পন সৃষ্টি করে, ফলে মাত্রা কম হলেও তা মানুষের কাছে তীব্র মনে হয়।
নেপালের ভূমিকম্পেও তাই মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, যদিও ক্ষয়ক্ষতির বড় কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
গত ৩০ নভেম্বর ৪ দশমিক ২ মাত্রা এবং তারও আগে ৬ নভেম্বর ৩ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে অনুভূত হয়।
নভেম্বরের শেষ দফার কম্পনের কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা অগভীর হওয়ায় তখনও বহু মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
নেপাল পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্প-সংবেদনশীল অঞ্চলের একটি। ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ রেখায় অবস্থান করায় ভূগর্ভে ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় হয়। হঠাৎ সেই শক্তি মুক্তি পেলেই ঘটে ভূমিকম্প।
এই একই সংঘর্ষের ফলে ধীরে ধীরে উঠে এসেছে বিশাল হিমালয় পর্বত, যার প্রতিটি স্তর বহন করে বিপুল চাপ ও ভূ-শক্তি। তাই প্রায় সারা বছর দেশটি ছোট-বড় কম্পনের মুখোমুখি হয়, ভবিষ্যতেও বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো তাজা নেপালবাসীর মনে। সে বছরের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার কম্পনে নিহত হন প্রায় ৯ হাজার মানুষ, ধসে পড়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ঘরবাড়ি।



