রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ভবনের সামনে মারধরের শিকার হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর।
বৃহস্পতিবার রাতে একদল বিক্ষোভকারী ডেইলি স্টারে ভাংচুর ও হামলা চালাচ্ছে- এমন খবর পেয়ে সেখানে গেলে তাদের তোপের মুখে পড়েন নূরুল কবীর।
ওই সময়ের বেশ কিছু ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলোতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধরা নূরুল কবীরকে মারধর শুরু করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারে এগিয়ে যান। তাদের সামনেই এসময় কেউ কেউ তার চুল টেনে ধরছিলেন, কেউ আবার গায়ে হাত দিচ্ছিলেন।
এসময় তাকে উদ্দেশ্য করে বিক্ষুব্ধরা ‘ভারতের দালাল’, ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
নূরুল কবীর সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা দুটি পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগও করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন দুটি পত্রিকা আক্রান্ত হয়েছিল। জুলাই আন্দোলনের একটি অংশের কাছে ‘ভারতের দালাল’ হিসেবে আখ্যা পাওয়া প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সামনে গরু জবাই করার কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে একদল মানুষ, যার আয়োজনে ছিল সদ্য মারা যাওয়া ওসমান বিন হাদির ইনকিলাব মঞ্চ।
ওয়ান-ইলেভেনের পর ‘মাইনাস টু’য়ের কুশীলবদের মধ্যে যাদের নাম এসেছিল তাদের মধ্যে দুটি পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন। কথিত আছে, মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথম আলো সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ছিলেন দুই প্রধান দলের দুই নেত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর, যা পরবর্তীতে ‘মাইনাস টু’ বলে পরিচিতি পায়।
২০০৭ সালের ১১ জুন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’ শীর্ষক মন্তব্য প্রতিবেদনও লিখেছিলেন।
এ সম্পর্কিত আরও খবর:



