যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের নতুন স্কিম, খরচ পড়বে কত?

নিউ ইয়র্কে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা অফিসের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে মানুষ। ছবি: রয়টার্স থেকে নেওয়া।
নিউ ইয়র্কে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা অফিসের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে মানুষ। ছবি: রয়টার্স থেকে নেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসে বিদেশিদের জন্য পাঁচ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ ডলারে ‘গোল্ড কার্ডের’ নতুন একটি স্কিম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মঙ্গলবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমরা গোল্ড কার্ড বিক্রি করতে যাচ্ছি। আপনারা গ্রিন কার্ড সম্পর্কে জানেন, তবে এটা গোল্ড কার্ড। আমরা এ কার্ডের মূল্য ৫ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছি, যা আপনাকে গ্রিন কার্ডের সুযোগ-সুবিধাসহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে সহায়তা করবে।”

তিনি বলেন, “ধনীরা এই কার্ড কিনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে আসবেন।”

দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কার্ড বিক্রি শুরু হবে এবং লাখ লাখ কার্ড বিক্রি হবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প।

এই কার্ড রাশিয়ার অলিগার্কদের কাছেও বিক্রি করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত হ্যাঁ; কারণ, আমি কিছু অলিগার্ককে চিনি যারা ভালো লোক।”

অলিগার্ক শব্দটির অনেক পুরনো ইতিহাস রয়েছে। প্রথাগত অর্থে অলিগার্কি ধারার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী এমন একজন হলেন অলিগার্ক। তবে বর্তমান সমেয়ে কিছু রাশিয়ান ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরই অলিগার্ক হিসেবে অভিহিত করা হয়, যাদের উত্থান ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর, এবং তারা খুবই ধনাঢ্য, দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এবং ক্ষমতাসীনদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে তাদের ওঠবস।

ওভাল অফিসে ট্রাম্প যখন ব্রিফ করছিলেন তার পাশেই ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। পরে তিনি স্কিমটির বিষয়ে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।  

লুটনিক জানান, এই গোল্ড কার্ড ‘ইবি-৫’ অভিবাসী বিনিয়োগ ভিসার স্থলাভিষিক্ত হবে, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি সৃষ্টিকারী বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থলগ্নি এবং তারপর অভিবাসন ভিসার আবেদন করতে পারবেন।

“তাদেরকে অবশ্যই যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যাতে করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা বিশ্বমানের নাগরিক,” যোগ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইবি-৫ প্রোগ্রামের আওতায় ১৯৯২ সালে কংগ্রেস গ্রিনকার্ড দেওয়ার অনুমোদন দেয়। ন্যূনতম ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিপন্ন অর্থনীতির অঞ্চলে ৮ লাখ ডলার বিনিয়োগের বিনিময়ে এই কার্ড দেওয়া হতো।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক এলাকায় ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ লাখ ডলার এবং অন্যান্য স্থানের জন্য ১.৮ মিলিয়ন ডলার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

অবশ্য ২০২১ সালে এক ফেডারেল বিচারক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিয়োগ সঠিকভাবে হয়নি জানিয়ে তার অনুমোদিত নিয়মটি বাতিল করে দেন।

আরও পড়ুন