বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
শোক বার্তায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের এক্স হ্যান্ডেলে বলা হয়, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি তার পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
“তার নেতৃত্ব ও সেবাসমূহ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।”
এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও পৃথক পোস্টে শোক জানিয়েছেন।
এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বলেছেন, “বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে তার যে অবদান তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খালেদা জিয়া পাকিস্তানের নিবেদিত বন্ধু ছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই শোকের মুহূর্তে আমার সরকার ও পাকিস্তানের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে।
“এই কঠিন সময়ে আমাদের ভাবনা ও প্রার্থনা তার পরিবার, বন্ধু এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার আত্মাকে শান্তি দান করুন। আমিন!”
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে নিয়ে গিয়ে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হলে দেশে ফিরে আসেনি তিনি।
তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল।
গত ২৩ নভেম্বর ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
ভোরে যখন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর জানানো হয় তখন হাসপাতালে ছিলেন তার ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান, জাফিয়া রহমান ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, প্রয়াত সাইদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার, খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।



