বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পাশের চেয়ারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদীর বসার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
চলমান ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ছবিটি শেয়ার করে নানা মন্তব্য করেছেন অনেকে। কেউ ইউনূসের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ মোদীকে নিয়ে তিরস্কার করছেন।
বৃহস্পতিবার বিমসটেক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দেন মুহাম্মদ ইউনূস। একই অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হোটেলে নৈশভোজের টেবিলে তাদের দুজনকে এক টেবিলে পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে।
নৈশভোজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

থাইল্যান্ডে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পাশের চেয়ারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদী
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে নৈশভোজের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়। ছবিগুলো পেছন থেকে তোলা হয়েছে। ছবিগুলো পোস্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেসসচিব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে জানিয়েছেন, এগুলো ব্যাঙ্ককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের ছবি।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি ইউনূস ও মোদীর পাশাপাশি বসে থাকা একটি ছবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “এসব ছবি প্রচার করে হৃদরোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।”
সাংবাদিক উদিসা ইসলাম লিখেছেন, “ভারতকে না আমাদের লাগবে না। তাহলে ইউনূস আর মোদীর পাশাপাশি বসা, না বসায় উত্তেজনার কী আছে।”
কামরুল হোসেইন লিখেছেন, “সেই সেলফি কিংবা পাশাপাশি বসা নিয়ে যে তোষণ- বড্ড চমৎকার লাগছে।”
আলম খায়রুল লিখেছেন, “এটাই বা কম কিসে।”

থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে নমস্কার জানাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস
কমলিকা চক্রবর্তী লিখেছেন, “নৈশভোজে কেউ ফাইলপত্র নিয়ে বসে- এমন দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। যেখানেই হোক, একজন নোবেলম্যান তার পাশে, চা বিক্রেতা নরেন্দ্র মোদীকে বসতে দিয়েছেন- এটাই বা কম কিসের? কি আর করা ডিনারের ছবি বলেই চালিয়ে দিন।”
ছবি শেয়ার করে ফেসবুক ব্যবহারকারী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান প্রদীপ লিখেছেন, “ইউনুসের পাশে বসা মোদী ভাগ্য। কারণ ওবামা, হিলারি, জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিশ্ব নেতারা ইউনুসের পাশে বসার জন্য উদগ্রীব থাকে।”
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আবেদন মেনে শুক্রবার মোদী ও ইউনুসের একান্ত বৈঠকটি হতে পারে বলে একাধিক সুত্র দাবি করেছে। সেই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে কড়া কথা শোনাতে পারেন মোদী, মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। বাংলাদেশে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ এবং সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনায় ভারত ক্ষুব্ধ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধান উপদেষ্টা। দুপুর ১২টার দিকে ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান দেমটির মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই।
শুক্রবার বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।