সিলেটে বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
তিনি বলেছেন, সিলেটে যে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ছিল তা নষ্ট করার দায় দলটির নেতৃত্ব এড়াতে পারে না।
বুধবার সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সাংসদ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় প্রায় শ’খানেক মটরসাইকেলে করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাদেল চৌধুরী।
নগরের পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় দু’জন তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া ওই বাসায় কেউ ছিলেন না।

নাদেল চৌধুরীর বাসার দুই ও তিন তলায় হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। আর রুহেল আহমদের বাসায় হামলার সময় সেখানে তার মা ও বোন ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দ্য সান ২৪-এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন নাদেল চৌধুরী।
তিনি জানান, তাদের যে ভবনে হামলা হয়েছে সেটিতে মূলত কয়েকটি ফ্ল্যাট তাদের। বাকিগুলোতে আটাশটি পরিবার রয়েছে।
“আমি তো নেই। আমার পরিবারের সদস্যদের কেউ সেখানে এখন থাকেন না। অথচ ৫ আগস্টের পর বেশ কয়েকবার হামলা হলো। শুরুর দিকের ঘটনাগুলো জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা করেছে তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আজকের ঘটনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল সরাসরি জড়িত। তারাই হামলা, লুটপাট চালিয়েছে।”
সিলেটের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সম্প্রীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাদেল চৌধুরী বলেন, সিলেটের রাজনীতিতে একটা হারমোনি ছিল। একটা সম্প্রীতি ছিল। আমি বলবো না যে এখানে রাজনৈতিক রেষারেষি নেই। কিন্তু সম্প্রীতি তো ছিল।”
এর দায় বিএনপি এড়াতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিএনপি মুখে মুখে নানা কথা বলে এলেও সত্যি বলতে তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।”

এতগুলো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের এই সাবেক সাংসদ।
“দেখুন, আওয়ামী লীগের কারো সম্পৃক্ততা পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজ থেকেই গুটিয়ে যাচ্ছে। এক একটা বাসাবাড়ি শুধু স্থাপনা নয়, নানা স্মৃতিচিহ্ন থাকে, যেগুলো নষ্ট করা হচ্ছে।”
এ ধরনের ঘটনা সিলেটের রাজনীতিতে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করছে বলে জানান তিনি।
“আমরা জানি, এ ধরনের ঘটনায় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। কিন্তু এর দায় তো ওই রাজনৈতিক দলেরই, নাকি? তাদের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণেই এসব ঘটছে। এমনটি চলতে থাকলে আগামী দিনে সমাজে চরম অস্থিরতার জন্ম নেবে।
“ক্ষমতার পালাবদল হবে। সরকার যাবে, সরকার আসবে। তবে এসব দৃষ্টান্ত কারোরই কাম্য নয়। মানুষের জন্য রাজনীতি করি। ন্যূনতম শিষ্টাচার বা সহমর্মিতা না থাকলেই এমনটি ঘটানো সম্ভব।”
প্রতিহিংসার রাজনীতির পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে নাদেল চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই, শুধু সিলেটে নয়, সারাদেশে শান্তি ও সহমর্মিতার পরিবেশ অব্যাহত থাকুক। সিলেটে যে সম্প্রীতির হারমোনি ছিল তা অব্যাহত থাকুক। যা আজ ঘটে গেল তা দুঃখজনক।”
সহায়ক পরিবেশ পেলে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক।