উগান্ডা- আফ্রিকার এই দেশটির নাম বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমত প্রকাশের ভয় থেকে অনেকে দেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে নাম হিসেবে উগান্ডা বেছে নিতেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভারতে ক্রিকেট খেলতে যেতে আপত্তি করায় আইসিসির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উগান্ডার অংশ নেওয়ার পথ খুলে যাওয়ার খবর এসেছিল। যদিও তাতে স্কটল্যান্ডের পথ খুলেছে, তবে আরেকটি দেশ বাদ পড়লে উগান্ডারই সুযোগ ঘটত।
এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে, উগান্ডা থেকে ভোট দেওয়া হচ্ছে। এই ভোট অবশ্য দিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাই। তবে উগান্ডায় যে বাংলাদেশিও রয়েছে, তা এতদিন অনেকের কাছে ছিল অজানা।
এবারের নির্বাচনেই নির্বাচন কমিশন প্রথম প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রবাসীদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পর তাদের পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয় ডাকযোগে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়। তার মধ্যে বুধবার নাগাদ তিন লাখ ২৬ হাজার প্রবাসী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালটে টিক চিহ্ন দিয়ে তা দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন।
ইসির তথ্য অনুসারে, উগান্ডায় মোট ৬১টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ৪৩ জন ভোট দিয়ে সেই ব্যালট ফেরত পাঠিয়েছেন।
এই সংখ্যাটি প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। নেপালে ৪৫টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল, তারমধ্যে ২০ জন ভোট দিয়ে তা ফেরত পাঠিয়েছে। পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল ৩১টি পোস্টাল ব্যালট, ফেরত এসেছে ১৯টি। ভারতে পাঠানো হয় ৩৫২টি পোস্টাল ব্যালট, ভোট দেওয়ার পর ফেরত এসেছে ২৬৯টি।
সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ব্যালট গেছে সৌদি আরবে, ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮টি। সেখান থেকে ভোট দেওয়ার পর ফেরত এসেছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৭০টি।
এরপর সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ব্যালট গেছে মালয়েশিয়ায়। সেখানে পাঠানো ৮৪ হাজার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন ৩৯ হাজার।
৫০ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট গেছে কাতার ও ওমানে। পাঠানো ব্যালট সংখ্যার নিরিখে এর পরের দেশগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় গেছে ১১ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট।
এই পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নানা কেলেঙ্কারির খবর এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন দেশে একক ব্যক্তি এই ব্যালট নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ এসেছে। আর এই ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট বলেই জানা যাচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটে আসা ভোটও জামায়াতের পক্ষেই পড়ছে বলে সোশাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে।
তবে ইসি বলছে, এই পোস্টাল ব্যালট গণনা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ভোটগ্রহণের পর অন্য ব্যালটের সঙ্গে।
১২ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে ৭ লাখ পোস্টাল ব্যালট সংখ্যায় বেশ অল্প মনে হলেও কিছু আসনে তা জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যেমন ফেনী-৩ আসন, এই আসনে পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা দেশের সর্বাধিক, ১৬ হাজার ১২৪ জন। এটিসহ ১৮টি আসন রয়েছে, যেখানে প্রতিটিতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট ১০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে একটি ছাড়া সব কটি আসনই চট্টগ্রাম বিভাগে।
সাড়ে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসী ভোটার রয়েছে চট্টগ্রাম-১৫, কুমিল্লা-১০, নোয়াখালী-১, নোয়াখালী-৩ এবং ফেনী-২ আসনে। ১০ হাজারের বেশি ও সাড়ে ১২ হাজারের কম প্রবাসী ভোটার আছে, এমন আসনগুলো হলো কুমিল্লা-৪, ৫, ৬, ৯ ও ১১, সিলেট-১, চাঁদপুর-৫, নোয়াখালী-৪ ও ৫, ফেনী-১, কক্সবাজার-৩ ও লক্ষ্মীপুর-২। ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজারের কম পোস্টাল ভোট আছে ৯৭টি আসনে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল ৩০টি আসনে। ফলে এবার অন্তত ১৮টি আসনে পোস্টাল ব্যালট ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।



