ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ

২০১৭ সালে জি২০ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০১৭ সালে জি২০ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুই বছরের ওপরে চলা ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুদ্ধের ইতি টানার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফোনে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন বলে নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

২০২২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রেসিডেন্ট এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে এটিই প্রথম টেলিফোন আলাপ।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার উপায় সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে গত সপ্তাহে এ যুদ্ধকে রক্তপাত আখ্যা দিয়ে বলেন, তার টিম ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ করেছে।

শুক্রবার এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে তিনি এবং পুতিন কতো বার কথা বলেছেন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,“এটা না বলাই ভালো।”

নিউ ইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, “তিনিও (পুতিন) চান মানুষ মরা বন্ধ হোক।”

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজে যোগাযোগ করা হলে তা স্বাভাবিক কর্ম ঘণ্টার বাইরে হওয়ায় কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে (টিএএসএস) বলেন,“অনেক ধরনে যোগাযোগই হচ্ছে।”

নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন সম্পর্কে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নানান মাধ্যমের সঙ্গেই এ আলোচনা চলছে।”

“আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানাতে চাচ্ছি না। তাই আমি এ বিষয়ে কিছু স্বীকারও করব না, আবার অস্বীকারও করব না।”

২০১৪ সালে ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলে মাইদান বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়াপন্থি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর রাশিয়া ক্রিমিয়া অঙ্গীভুত করে এবং রাশিয়াপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর লড়াইয়ের মাধ্যমে এ সংঘাতের সূচনা হয়।

এরপর ২০২২ সালে ইউক্রেইনের রুশ ভাষী লোকদের রক্ষায় ‘বিশেষ সেনা অভিযান’ নাম দিয়ে হাজার হাজার সেনা পাঠায় পুতিন।

ইউক্রেইন এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন তার পশ্চিমা মিত্ররা এ আক্রমণকে সাম্রাজ্যবাদী জমি দখল আখ্যা দিয়ে রাশিয়াকে পরাজিত করার অঙ্গীকার করেছে।

রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেইনের একটা অংশ দখলে নিয়েছে এবং দ্রুত সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ট্রাম্প-পুতিন সম্মেলন

ট্রাম্প বার বার এ যুদ্ধের সমাপ্তি এবং পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বললেও তার দিন-ক্ষণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

রয়টার্স এ মাসের শুরুতে এক প্রতিবেদনে এ আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সৌদি আরব অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দেখা হচ্ছে বলেও জানায়।

রুশ সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির প্রধান লিওনিদ স্লুটস্কি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ কে বৃহস্পতিবার বলেন, এমন একটি বৈঠকের প্রস্তুতি “অগ্রগতির পর্যায়ে” রয়েছে এবং তা ফেব্রুয়ারি বা মার্চে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ জুন যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়া এবং রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত চারটি অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত দেয় পুতিন।

২০২২ সালে ইউক্রেইনে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় পুতিনের। এ সময় দুজনের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী আলাপ হয় বলে ক্রেমলিন জানায়।

এছাড়া ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধ বিষয়ে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও শুক্রবার জানান।

ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, “পুতিনের সঙ্গে সব সময়ই ভালো সম্পর্ক ছিল” এবং যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও আছে। তবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

খুব দ্রুতই হবে প্রত্যাশা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “প্রতিদিন মানুষ মরছে। ইউক্রেইনের যুদ্ধটা খুব বাজে। আমি এর সমাপ্তি চাইছি।”

আরও পড়ুন