মুসলমানদের দুটি বড় উৎসবের একটি রোজার ঈদ। নতুন পোশাক আশাক তো আছেই, সেইসঙ্গে আছে নানা আয়োজন। পরিজনের বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে তাই ঈদের মাসে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। যার হাওয়া লেগেছে রেমিটেন্স প্রবাহেও।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৯ দিনে ২২৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাব (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) ধরে এই অঙ্ক ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের ১৯ দিনে গত বছরের একই সময়ে তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ। গত বছর মার্চ মাসের প্রথম ১৯ দিনে ১২৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছিল।
এ ছাড়া চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত দুই হাজার ৭৪ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিটেন্স এসেছিল এক হাজার ৬৩৪ কোটি মার্কিন ডলার।
আগের মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিটেন্স এসেছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে)। এ হিসাবে দৈনিক গড়ে রেমিটেন্স এসেছে ৯ কোটি ডলার বা এক হাজার ১১০ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিটেন্স এসেছে এবং আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম উপাদান হলো প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয় ও বিদেশি ঋণ। তবে এর মধ্যে প্রবাসী আয় ডলার জোগানের একমাত্র দায়বিহীন উৎস। কারণ এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয় না, আবার কোনো দায়ও পরিশোধ করতে হয় না।
তবে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দেশে ডলার এলেও তার জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে আবার বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়।
অন্যদিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতেও ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে রিজার্ভ বাড়ে; অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
প্রতিবছর বিপুল রেমিটেন্স এলেও এখনো বড় অঙ্ক অবৈধ পথে চলে যাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে বৈদেশিক শ্রমবাজারে ৯ লাখ ৬ হাজার ৩৫৫ জন কর্মী যুক্ত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে পাঠানো জনশক্তির অঙ্ক ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৭ জন। এই বিপুল জনশক্তির অর্জিত আয় বৈধ পথে দেশ আনতে পারলে বাৎসরিক রেমিটেন্সের অঙ্ক ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা।