অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
শনিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “এই নির্বাচন সাজানো নির্বাচন, এই নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানোর নির্বাচন। আপনাদের কাছে অনুরোধ এই নির্বাচনে আপনারা ভোট দিতে যাবেন না।”
বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতিতে ‘মাইনাস-টু ফর্মুলার’ যে আলোচনা গত দেড় যুগ ধরে উচ্চারিত হয়ে আসছে, তারই প্রচ্ছন্ন বাস্তবায়ন ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে দেশের রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত।
এ অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে দলের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ খণ্ডন করে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হয়ে ওঠেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
জল্পনা-কল্পনা রয়েছে আগামী দিনের আওয়ামী লীগের ভার শেখ হাসিনা তনয়ের কাঁধেই আসছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দেড় বছর ধরে দেশের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ বলেন, “আমি জানি আপনারা খুব বিরক্ত। কোনো আইনশৃ্ঙ্খলা নেই, অর্থনীতি পড়ে গেছে, গণতন্ত্র নেই, আপনাদের ভয়ে থাকতে হয়েছে। আপনারা সবাই বিরক্ত, ভোট দিতে চান যাতে এই সরকার চলে যায়। আপনারা ভোট দেন বা না দেন, এই সরকার নির্বাচনের পরে আর থাকছে না।”
নির্বাচনে দেশের অর্ধেক সংখ্যক দলকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, “শুধু আওয়ামী লীগ তো না, যত স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল, তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যত প্রগতিশীল দল, তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বিএনপি জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য এ নির্বাচন হচ্ছে। যেই জামায়াত আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, যারা আমাদের দেশের ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, তাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য।”
‘গায়ের জোরে সংস্কার করা সম্ভব নয়’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনার ছেলে বলেন, “আমি জানি আপনারা আরও বিরক্ত রাজনীতি সংকটের ওপর। আপনারা সংস্কার চান। তবে সংস্কার কিন্তু গায়ের জোরে একতরফা করলে টিকে না, ঠিক হয় না। পঁচাত্তরের পর সামরিক শাসন, গণভোট দিয়ে সংস্কার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে গণতন্ত্রের কোনো লাভ হয়নি, বরং দুর্বল হয়েছে।
“এই গণভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র আবারও দুর্বল হয়ে যাবে। রাজনৈতিক সংকট-সংঘর্ষ আবারও ফিরে আসবে। আজ হোক কাল হোক আবারও আন্দোলন হবে, আবারও এরকম পরিস্থিতি ফিরে আসবে।”
এ অবস্থায় সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তাই আমার অনুরোধ আপনাদের প্রতি, আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন কি করেন না, বাংলাদেশের যদি ভালো চান, বাংলাদেশের ভবিষ্যত যদি নিশ্চিত করতে চান, তাহলে এই নির্বাচনে ভোট দেবেন না।
“এটা একটা সাজানো নির্বাচন, এখানে রেজাল্ট কী হবে তারা অলরেডি নির্ধারণ করে বসে আছে। কত শতাংশ ভোট হবে সেটাও তারা আগে থেকেই নির্বাচন কমিশন বলে দিচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ একটা নাটক। এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে কোনো লাভ নেই।”
এ সম্পর্কিত আরও খবর:



