সরকারে থাকতেই ‘লাল পাসপোর্ট‘ ছাড়ছেন উপদেষ্টারা

মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য কূটনীতিক পাসপোর্ট ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য কূটনীতিক পাসপোর্ট ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তোহিদ হোসেন।

তিনি দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের প্রয়োজন বিবেচনায় সময়মতো ভিসা পেতে তারা আগেভাগে বিশেষায়িত এসব পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন।

তবে ঠিক কোন কোন উপদেষ্টা এমনটি করেছেন তা বলেননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি নিজে কিংবা তার স্ত্রী এমনটি করেননি বলেও তার দাবি।

রোববার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট একটি বিশেষ রঙের পাসপোর্ট, যা সাধারণ পাসপোর্ট থেকে আলাদা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের অধীনে এসব পাসপোর্টে বিশেষ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট লাল রঙের। এই পাসপোর্ট পান রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্য এবং তাদের স্পাউস অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী।

সেই সঙ্গে উচ্চতর আদালতের বিচারপতি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রধান, মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের কর্মকর্তারা লাল পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন।

লাল পাসপোর্ট যাদের আছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য কোন ভিসা প্রয়োজন হয় না। তারা সংশ্লিষ্ট দেশে অবতরণের পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পান।

ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট সব দেশেই লাল রঙের হয়ে থাকে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি বা আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেইনি। আমার পাসপোর্ট এখনও আমার কাছে আছে এবং যথারীতি ওটা বহাল আছে।

“এটা খুব অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তার মেয়াদ থাকাকালে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন; এটা খুবই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটত। সেটা অবশ্যই করি নাই।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার বিষয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “মন্ত্রীরা কেউ কেউ করছেন, কারণ এরপরে তাদের বাইরে যাওয়ার প্রশ্ন আছে। পাসপোর্ট তো এখন থেকে নিয়ে নিলেন, যাতে করে তাদের ভিসা নিতে সহজ হয় আরকি। সময়মতো তারা নিতে পারেন।

“তারা নিয়েছেন কেউ কেউ। এটা ঠিক। তবে এটা ঠিক নয় যে, আমি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছি। আমার পাসপোর্ট যথারীতি বহাল আছে।”

কূটনৈতিক পাসপোর্টে ভিসা প্রাপ্তি সহজ হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে একজন তার কাছে জানতে চান- তারপরও তারা কেন এখনই এগুলো সারেন্ডার করছেন?

জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “ব্যাপারটা হলো যে, একটু সময় গেইন করা, যাতে তাদের এর মধ্যে পাসপোর্টটা হয়ে গেল। মেয়াদ শেষ হলে তারা ঠিকঠাক থাকবে।

“যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বি-ওয়ান, বি-টু ভিসা, সেটা কিন্তু বাতিল হয় না পাসপোর্ট বাতিল হয়ে গেলেও। কিন্তু তাদের তো নতুন পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে। যদি যেতে হয় আরকি।”

২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কূটনীতিক পাসপোর্ট বাতিল করে দেয় মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। নির্বাচনের আয়োজনের মধ্যে বর্তমান সরকারের উপদেষ্টাদের পাসপোর্ট সারেন্ডারের ঘটনাকে অনেকেই অস্বাভাবিক হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিজেও এ ঘটনাকে “অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা” হিসেবে দেখছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads