ব্যালটে নৌকা ছাড়া কীসের ভোট, প্রশ্ন শেখ হাসিনার

সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। ছবি: এএফপি ভায়া এনডিটিভি
সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। ছবি: এএফপি ভায়া এনডিটিভি

দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ১০ জানুয়ারি শুক্রবার ভার্চুয়ালি দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা নির্বাচন করতে যাচ্ছে, কী নির্বাচন? আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দেবে না। আজকে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় কীসের জন্য তারা, জানেন? কারণ, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এত বদনাম ছাড়ানোর পরও যখন দেখে যে বাংলার মানুষের আস্থা-বিশ্বাস আওয়ামী লীগের ওপর আছে, আমার ওপর আছে। নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হলেই আমরা জয়লাভ করব।”

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপকে তামাশা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “যেহেতু আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে; যেহেতু আওয়ামী লীগ দেশের উন্নতি করবে; যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ বিক্রি করতে পারবে না; মানুষকে শোষণ করতে পারবে না; চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি এগুলো থাকবে না; দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বানাতে পারবে না; সেই কারণেই আজকে আওয়ামী লীগকে ইলেকশন করতে দেবে না। নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় থেকেই তিনি নয়া দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় সেখানে থাকছেন।

ইতোমধ্যে তার দলের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার; স্থগিত করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত, আর আমাদেরকে নিষিদ্ধ করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী! এর থেকে বড় তামাশা আর কী হতে পারে?”

আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের অংশ নিতে না দিলে দলটির কোটি কোটি অনুসারী ভোট বর্জন করবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে দেবে না। ব্যালটে নৌকা মার্কা থাকবে না, আওয়ামী লীগ থাকবে না সেই ব্যালটে কেন জনগণ ভোট দিতে যাবে? আমরা তো নির্বাচন বর্জন করতে চাই না। আমরা নির্বাচন করতে চাই।”

নিজের দলকে নির্বাচনমুখী দল হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল। কোনো কোনো দল ২০২৪-র নির্বাচন বর্জন করেছে। ২০১৪-র নির্বাচন বর্জন করেছে। কেন করেছিল? কারণ ২০০৮-র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেভাবে জিতেছিল, এর পরে তারা জানে যে তাদের অপকর্ম, দুর্নীতি, দুঃশাসন মানুষ ভোলে নাই। যে কারণে তাদের ভোট দেবে না, তাই তারা বর্জন করেছে। আমরা তো তা না।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের বিশ্বাস আছে, জনগণের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। কাজেই আমরা এজন্য ইলেকশন করতে চাই। আমাদের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুক। ওই ব্যালট পেপারে আমাদের নৌকা মার্কা থাকবে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে। আমরা ইলেকশন করব।”

“গণতন্ত্রে যদি বিশ্বাস করে, জনগণ যাকে মেনে নেবে, জনগণ যাকে চাইবে তারাই ভোট করবে। এটা হলো বাস্তবতা। আমাদের একটাই কথা নির্বাচন সম্পর্কে। সেটা হলো জনগণ আমাদেরকে চায়, আওয়ামী লীগকে চায়। জনগণ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে। নির্বাচনে গেলে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে,” যোগ করেন তিনি।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হলে নতুন করে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads