অনুসারীদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার দলের এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু ব্যালটে নৌকা নেই, ভোটও দেবে না। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী ভোট দেবে না। আমরা ভোট দেব কোথায়?”
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “হ্যাঁ, এখন আমাদের কাছে অনেকে আসবে, অনেকে মিঠে মিঠে কথা বলবে, অনেকে পটাবে, অনেক কিছু করবে; কিন্তু আমাদের মাথায় এটাই রাখতে হবে- ওই ব্যালটে আমরা ভোট দিতে পারি না, বা আওয়ামী লীগ ভোট দেবে না।”
আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নির্বাহী আদেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন কমিশনও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
আন্তর্জাতিক মহল থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এ নির্বাচন কতোটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নিয়েও ওঠেছে প্রশ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও অন্যতম বড় দলকে এভাবে ভোটের বাইরে রাখার মাধ্যমে মূলত তাদের অনুসারীদের মতামতকে উপেক্ষার পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার, যাতে বিগত সরকারের অনুশীলনের ধারাবাহিকতা দেখছেন তারা।
শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় আওয়ামী লীগকে নির্বাচনমুখী দল হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন বর্জন করি না। আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু ওরা আমাদের করতে দেবে না। তফাতটা ওখানেই। বিএনপি বর্জন করেছে, আমরা বর্জন করি না। আমরা তো নির্বাচন করতে চাই। আমরা জিতবো সেই ভয়ে তারা নির্বাচন করতে দেবে না।”
আওয়ামী লীগকে নির্বাচন অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত করে গঠিত সরকার কতোটা টেকসই হবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
খানিকটা হুমকির স্বরে তিনি বলেন, “তা এই নির্বাচন করুক, কতদিন টিকে থাকে দেখবো আমরা। এক মাঘে শীত যায় না। কাজেই এটা মাথায় রাখতে হবে। দিন ফিরে আসবে। ওই অত্যাচারের দিন বেশিদিন থাকে না।”
আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা কোন ধরনের নির্বাচন? আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, কই আমরা তো কোনো দল নিষিদ্ধ করিনি। বিএনপিকে কি আমরা নিষিদ্ধ করেছিলাম? আমরা নিষিদ্ধ করি নাই। বিএনপি নিজেই ইলেকশন করেনি, কেন করেনি? এটাও খুব স্পষ্ট।
“২০০৮-এ যে নির্বাচন সেই নির্বাচন নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন ওঠাতে পারে না। সেই নির্বাচনের রেজাল্টটা কী ছিল? আওয়ামী লীগ এককভাবে ৪৮ শতাংশ ভোট পায়। ২৫৯টি আসনে ভোট করে, বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোকে দিয়ে দেই। ২৫৯টি আসনে নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করে ২৩৩টি আসন আমরা পেয়েছি। আর বিএনপি? জামায়াতকে সাথে নিয়ে ২০ দলীয় ঐক্যজোট করে ৩০০ আসনে ভোট করে ৩২ পার্সেন্ট ভোট পেয়েছিল। ৩০টা আসন পেয়েছিল। এই রেজাল্টের পর বিএনপি আর নির্বাচনই করতে চায়নি,” যোগ করেন তিনি।
এর আগেও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একাধিক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেছিলেন, তার দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া না হলে লাখ লাখ অনুসারী ভোটকেন্দ্রে যাবে না।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কয়েক মাস মিডিয়ার সামনে না এলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দলের পক্ষে সরব রয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাকে ‘প্রহসনের বিচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
শেখ হাসিনা ছাড়াও তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রয়েছে শত শত মামলা। দমন-পীড়ন ও মামলার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী।
এ সম্পর্কিত আরও খবর:



