কাশিমপুর কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী

গত ৭ এপ্রিল ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হয় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। ফাইল ছবি
গত ৭ এপ্রিল ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হয় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। ফাইল ছবি

গ্রেপ্তারের পাঁচ দিনের মাথায় জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এর আগে রোববার সকালে তার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইন।

সেসময় তার আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছিলেন, যেহেতু শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে অন্য কোনো আটকাদেশ নেই, সেহেতু তার মুক্তি পেতে কোনো বাধা নেই।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এর আগেও বিভিন্ন সময় জামিন পেলেও অন্য মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মুক্তির পথ রুদ্ধ করার অনুশীলন দেখা গেছে। সে কারণে সাবেক স্পিকার আদৌ মুক্তি পাবেন নাকি অন্য কোনো মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক রাখা হবে তা নিয়ে সন্দেহ ছিল

বোরবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান বলে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ জানান।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বলেন, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে তার স্বজনরা নিয়ে গিয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় ৭ এপ্রিল কারাগারে পাঠানো হয়েছিল শিরীন শারমিন চৌধুরীকে।

২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দৃশ্যপটে ছিলেন না শিরীন শারমিন। ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

সেদিন পুলিশের তরফে তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads