দক্ষিণ কোরিয়া ইতিহাসের ভয়াবহতম দাবানলে পুড়ছে; যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ছাড়াও বাস্তুহারা হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
দাবানলে পাাঁচটি দিক থেকে আক্রান্ত মানুষজন এবং প্রাচীন নিদর্শনগুলো রক্ষায় জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা।
গত ২১ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুরু হওয়া দাবানলে নিহতদের অধিকাংশই প্রবীণ, যাদের বয়স ৬০ থেকে সত্তরোর্ধ্ব। বয়সের কারণে তারা ভয়াবহ এ দাবানল থেকে পালাতে পারেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এদর মধ্যে তিনজন বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা, যারা আগুন থেকে বাঁচতে পালানোর সময় গাড়িতে আগুন ধরে নিহত হন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দাবানল মহাপ্রলয়ের মতো তাদের বাড়িঘর গ্রাস করছে। তাদের শহরের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বর্ণনাতীত।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, মূলত মানুষজনের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, সেইসঙ্গে বাতাস এবং শুষ্ক ভূমি তা আরও উস্কে দিচ্ছে। তীব্র বাতাসের কারণে হেলিকপ্টারের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

মঙ্গলবার আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আগুনে উইসিয়ং শহরের ১৩শ’ বছর পুরনো একটি মন্দির পুড়ে গেছে। এছাড়া অনেক প্রাচীন নিদর্শন হুমকির মুখে পড়েছে।
বিবিসি আবহাওয়া পূর্বাভাস বিশেষজ্ঞরা বৃষ্টি আসা বা ঠাণ্ডা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না খতিয়ে দেখছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে কিছুটা বৃষ্টির আভাস থাকলেও তা দাবানল নেভানোর মতো যথেষ্ট হবে না বলেই তাদের ধারণা।
নতুন করে আরও চারটি এলাকাকে দুর্যাগপ্রবণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে গোয়েংবুক আন্দং, চেওসং, ইয়ংইয়াং ও ইয়ংডিওক ফরেস্ট। এ ছাড়া সানচেওং, উলজু এবং উলসান ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকার তালিকায় রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বন বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত পাঁচটি প্রধান জায়গায় আগুন জ্বলছে।
এ ধরনের দাবানল আসলে কতটা স্বাবভাবিক দক্ষিণ কোরিয়ায়? দেশটিতে এ ধরণের দাবানল সাধারনত বসন্ত বা শরতে হয়ে থাকে। আগের দশকের বনাঞ্চলে বছরের প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ আগুনের ঘটনা ঘটে। যার অর্ধেক মার্চ এবং মে মাসে ঘটেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হ্যান ডাক সু মঙ্গলবার বলেন, গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় পরিবেশ স্বাভাবিকের চেয়ে শুস্ক অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে বছরের এই সময়র মধ্যে ২৪৪টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।