পরাক্রমশালী দেশগুলোর বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন পুঁজিবাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগে দেদারসে বিকোচ্ছে বিভিন্ন স্টক। এর ফলে খাড়াভাবে পড়ছে শেয়ারের দাম।
সোমবার ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ সূচক হারিয়েছে ২ শতাংশ, ডাউ জোন্স সূচক কমেছে ০.৯ শতাংশ এবং নাসডাক সাড়ে তিন শতাংশের বেশি পড়ে গেছে।
শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন অর্থনীতি মন্দার মুখোমুখি হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ‘রূপান্তরের সময়কাল’ হিসেবে অভিহিত করার পর পুঁজিবাজারে শেয়ার পড়তে শুরু করে।
অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন অর্থনীতিতে কোনো সংকোচন হবে না, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু পণ্যের দাম হয়তো বাড়তে পারে।
বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে শুল্ক আরোপের ফলে দাম বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
“ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করছেন, আমার মনে হয়, নিঃসন্দেহে, ভবিষ্যতে কোথাও না কোথাও মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে,” কিলিক অ্যান্ড কোং-এর বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক র্যাচেল উইন্টার টুডে প্রোগ্রামকে বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-এরিয়ান বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের কর হ্রাসের পরিকল্পনা সম্পর্কে আশাবাদী ছিলেন, একই সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কাকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলেন।
“এটি এমন একটি অবস্থা যা প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। বিনিয়োগকারীরাও সামঞ্জস্য বজায় রাখার পথে হাঁটছেন। অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসা এবং পারিবারিক ব্যয় কমাবে নিশ্চিত ভাবে। আর এমনটি হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
সোমবার টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে, যেখানে প্রযুক্তি খাতের স্টক এনভিডিয়া এবং মেটা উভয়ই ৪ শতাংশের বেশি দাম হারিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই টানা পতনের মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার।
রোববার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময়, ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
কারণ, আমেরিকা মন্দার মুখোমুখি হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করা আমার পছন্দনীয় নয়। আমরা একটি রূপান্তরের সময়কালের মধ্যে রয়েছি। কারণ আমরা যা করতে যাচ্ছি তা বিশাল বিষয়। আমরা আমেরিকায় সম্পদ ফিরিয়ে আনছি। এটি মস্ত বড় বিষয়।”
“এতে একটু সময় লাগতে পারে, তবে আমি মনে আমাদের জন্য দুর্দান্ত কিছু অপেক্ষা করছে,” যোগ করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন, মেক্সিকো এবং কানাডার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা অবৈধ মাদক এবং অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যদিও এই তিনটি দেশই ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত সপ্তাহে মেক্সিকো এবং কানাডা থেকে আমদানির উপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। যদিও দুই দিন পরেই অনেক পণ্যের উপর থেকে কর প্রত্যাহার করেও নেন।
অন্যদিকে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক ২০ শতাংশ করেছেন, যা আগের আরোপিত শুল্কের দ্বিগুণ।
বদলা হিসেবে সোমবার থেকে মার্কিন কৃষি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করেছে চীন। তার মানে, মুরগি, গরুর মাংস, শূকরের মাংস, গম এবং সয়াবিনসহ মার্কিন পণ্যের উপর ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত নতুন শুল্ক দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
কানাডার সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর প্রধানমন্ত্রী ডগ ফোর্ডও বলেছেন যে তিনি শুল্কের প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি রপ্তানির উপর ২৫% সারচার্জ আরোপ করবেন।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প যদি আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান, “আমি সম্পূর্ণরূপে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে দ্বিধা করব না।”