ধর্মঘটে অচল জার্মান বিমানবন্দর, শত শত ফ্লাইট বাতিল

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে জার্মানি জুড়ে বিমানবন্দর কর্মীদের ধর্মঘটে শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছে যাত্রীরা।

রোববার হামবুর্গ বিমানবন্দরে শ্রমিক ইউনিয়ন ভার্দির নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনটি জাতীয় ধর্মঘটে পরিণত হয়েছে। ধর্মঘটে বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে গেছে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ, বার্লিনসহ সব বিমানবন্দরে।

সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে বিমানবন্দরগুলোর পক্ষ থেকে যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জার্মানির সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্ট জানিয়েছে, যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারবে না এবং সেবা ‘নিশ্চিতভাবে’ ব্যাহত হবে।

সরকারি কর্মচারি এবং পরিবহন শ্রমিকদের ইউনিয়ন ভার্দি মজুরি এবং কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল।

জার্মান গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মঘটে দিনে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়ে পাঁচ লাখেরও বেশি বিমানযাত্রীর জন্য বিড়ম্বনায় পড়বে।

ধর্মঘটের ফলে ফ্লাইট ‘বিলম্ব এবং ব্যাপকহারে’ বাতিল করা হচ্ছে বলে লুফথানজা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে।  অন্যদিকে মিউনিখ বিমানবন্দর থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের কারণে তাদের ফ্লাইট ‘সময়সূচি সীমিত’ করা হয়েছে।

হামবুর্গ বিমানবন্দরের মুখপাত্র ক্যাটজা ব্রোম জানান, সোমবার তাদের  নির্ধারিত ১৪৩টি ফ্লাইটই বাতিল করা হয়েছে।

ছুটির মৌসুম শুরুতে পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভার্দির ধর্মঘট ‘মর্যাদাহানিকর’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলে, রোববারের ধর্মঘট ‘অতিরিক্ত এবং হাজার হাজার যাত্রীদের প্রতি অবিচার’; যাদের এইসব অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

ধর্মঘটের ফলে হাজার হাজার যাত্রীরা অসুবিধায় পড়ছেন স্বীকার করে ভার্দির এক মুখপাত্র জার্মান গণমাধ্যমে বলেন, নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে বেশি বেতন পাওয়ার জন্য এটার প্রয়োজন ছিল।

বিমানবন্দর কর্মীদের ধর্মঘটে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের ইতোমধ্যে এক হাজার ৭৭০টি নির্ধারিত ফ্লাইটের অনেকগুলো বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে মিউনিখের ৮২০টি ফ্লাইটের বেশিরভাগই বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া স্টাটগার্ট, ডুসেলডর্ফ, কোলন এবং বার্লিনে আরও শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনডিআর এর তথ্য অনুযায়ী, অনেক যাত্রী চেকইন করে বিপদে পড়ে গেছে। কারণ এখন আর তারা তাদের মালপত্র ফেরত নিতে পারছেন না।

তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, ধর্মঘটের কারণে হ্যানোভার বিমানবন্দর এয়ার ট্রাফিক পুরোপুরি স্থগিত হয়ে গেছে।

বিমানবন্দর ছাড়াও ভার্দি বার্লিন, এসেন এবং কিয়েলৈসহ বেশ কয়েকটি শহরে ময়লা সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে থেকে সেখানকার ডাস্টবিনগুলো খালি হয়নি।

সংঘটি বিমানবন্দরের কর্মীদের জন্য ৮% বেতন বৃদ্ধির অথবা অন্তত ৩৫০ ইউরো বেশি মাসিক ভাতা, সাথে উচ্চতর বোনাস এবং অতিরিক্ত ছুটির দাবি জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত নিয়োগকর্তারা এই দাবিগুলোকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

আরও পড়ুন