তরুণদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ আমজনতার দলকে নিবন্ধন না দেওয়ায় লাগাতার অনশন করছেন দলটির সদস্য সচিব তারেক রহমান। শুক্রবার অনশনের ৭১ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়েছে।
দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে অনশনরত তারেক বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পরে ‘৭১’ শব্দটা নানাভাবে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কারা করেছে, আপনারা জানেন। এজন্য আমি কষ্ট করে হলেও এই পর্যন্ত আসতে চেষ্টা করেছি, এখন আরও থাকতে হয়েছি। একাত্তরকে মুছে ফেলা যায় না।”
অনশন ভাঙাতে দলের নেতারা বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত তারেক তাতে রাজি হননি। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে স্যালাইন দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছিল। তবে তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে তার দলের নেতারা জানিয়েছেন।
এদিকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তারেক যখন নিজের দলের নিবন্ধন পেতে লড়ছেন, সেখানে ডেসটিনির মতো বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তার দলের নিবন্ধন পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
রফিকুল আমীনের দলকে বৈধতা দিয়ে ইসি নিজেই জনগণের আস্থা হারাচ্ছে কিনা সে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকেই।
গণঅধিকার পরিষদ, সাম্যবাদী দল, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন ও সমাজকল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন শুক্রবার তারেক রহমানের অনশনস্থলে হাজির হয়ে তার দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন বলেন, “ডেসটিনির মতো জনগণের পকেট কাটা প্রতিষ্ঠানের এমডির গড়া দলকে নিবন্ধন দেওয়া মানে ইসির বিশ্বাসযোগ্যতায় আঘাত।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক মনে করেন, “যে ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ করে জেলে ছিলেন, তার হাতে একটি দলের নিবন্ধন তুলে দেওয়া ইসির চরম নৈতিক ব্যর্থতা।”
অর্থপাচার মামলায় ২০১২ সালে গ্রেপ্তার হন রফিকুল আমীন। চার হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমানে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘদিন তিনি কারাভোগ করেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন দল গঠনের ‘বাহানা’ দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রফিকুল মুক্তি পেয়েছেন। পরে ১৭ এপ্রিল তিনি নিজেকে আহ্বায়ক ও ফাতেমা তাসমিনকে সদস্য সচিব করে নতুন দল বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি গঠনের ঘোষণা দেন।
পরবর্তিতে দলটিকে নিবন্ধন না দেওয়ার দাবিতে ডেসটিনির ক্ষতিগ্রস্তরা নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে মানববন্ধন করলেও নিবন্ধন পেয়ে যায় রফিকুল আমীনের দল।



