বুমেরাং হলো তারেকের মোনাজাত, সামনে এল বঙ্গবন্ধুর ছবি

১৯৭২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হয়েছিল শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর মোনাজাতের ছবি।
১৯৭২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হয়েছিল শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর মোনাজাতের ছবি।

শহীদ মিনারে গেলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, যে কাজটিকে এতদিন ধরে ‘অনৈসলামিক’ বলে আসছিল তার দল, শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়ার সেই কাজটিও তিনি করলেন। এনিয়ে আলোচনাও হচ্ছে। কিন্তু সেই আলোচনা ছাপিয়ে গেল নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচার দলের এক ভুয়া দাবি।

শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর কেবলামুখী হয়ে মোনাজাত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটা নিকট অতীতে দেখা যায়নি। তার মা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ও তা করেননি।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মোনাজাত করেন জামায়াত আমির শফিকুরও। জামায়াতের নেতাদের মধ্যে প্রথমবার শহীদ মিনারে যাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নবানেও পড়েন তিনি।

এই মোনাজাত নিয়ে যখন চলছিল আলোচনা, তখন বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে মোনাজাতরত তারেক রহমানের ছবি দিয়ে একটি ফটোকার্ড তৈরি করা হয়। তাতে লেখা হয়- ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।

এরপর সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এনিয়ে, তার শিরোনাম দেয়- ‘ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রধানমন্ত্রীর’। কালের কণ্ঠসহ আরো কয়েকটি সংবাদপত্রও এমন শিরোনামে খবর প্রকাশ করে।

কিন্তু পরে দেখা যায়, কথাটি সত্য নয়। শহীদ মিনারে মোনাজাতের আরো নজির আসতে থাকে সোশাল মিডিয়ায়। এমনকি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মোনাজাতের একটি ছবিও পাওয়া যায়।

বিএনপির প্রেস উইংয়ের পোস্টে দাবি করা হয়, অতীতে শহীদ মিনারে কেউ মোনাজাত করেননি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথম শহীদ দিবস পালন করেছিল বাংলাদেশ। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে আত্মদানরকারীদের স্মরণে তখন ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন হতো। এখন তা ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৯৭২ সালে শহীদ মিনারে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচির খবর এসেছিল ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারির সংবাদপত্রগুলোতে (একদিন ছুটি থাকায়)। দৈনিক বাংলায় সেদিন প্রথম পাতায় বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি ছাপা হয়েছিল, সেখানে তাকে মোনাজাতরত দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনেও মোনাজাতের কথা লেখা ছিল।

এর আগে ১৯৫৩ সালে প্রথম শহীদ দিবসেও মোনাজাতের কথা আসে বিভিন্ন জনের লেখার উদ্ধৃতিতে। ফলে বিএনপির মিডিয়া সেলের দাবিটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তার উপদেষ্টা হিসেবে নবীন কয়েকজনকে নিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার তাদের সরকারি পদও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংও নতুন করে সাজিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনায় তার সেই ব্যক্তিদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময়ও এমন ঘটনা দেখা গেছে। কুমিল্লায় জনসভায় গিয়ে তিনি সেখানে ইপিজেড স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অথচ জেলাটিতে ইপিজেড আছে অনেক দিন ধরে। আবার মৌলভীবাজারে গিয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আশ্বাস দেন তারেক রহমান, সেখানেও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন, ফলে তার কাছে হালনাগাদ তথ্য নাই থাকতে পারে। কিন্তু তার সহযোগীদের দায়িত্ব তাকে সঠিক তথ্যটি সরবরাহ করা। প্রবীণদের এড়িয়ে এখন তারেক রহমান যাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের অতিতৎপরতা তাকে ডুবিয়ে দিতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads