এগারোতম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে নামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দুটি সংগঠন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ও ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের’ নেতারা যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলন স্থগিতের কথা জানায়।
একইসঙ্গে রোববার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সন্তানতুল্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে রোববার থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তিনি পত্রিকাটির কাছে আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষকরা। পরে ১১তম গ্রেডে বেতনের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
কিন্তু আশ্বাস পূরণ না হওয়ায় গত ৮ নভেম্বর শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ ব্যানারে সেদিন বিকালে তারা মিছিল নিয়ে শাহাবাগের দিকে যাওয়া চেষ্টা করলে আটকে দেয় পুলিশ।
সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান, লাঠি চার্জ, কাঁদুনে গ্যাস প্রয়োগ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। সেসময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা পরদিন থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন।
পরে ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা, যেখানে একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ এবং উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির জটিলতা নিরসনে সরকার আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে ওইদিন রাতে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
এরপর ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ অনুসারীরা সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন।
এর মধ্যে সোমবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেশ কিছু স্কুলে আন্দোলনরত শিক্ষকরা তা বর্জন করে কর্মবিরতি চালিয়ে যান।
এদিকে বৃহস্পতিবার তিনজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৪৪জন সহকারী শিক্ষককে নিজ জেলার বাইরে বদলির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন, রেওয়াজ না থাকলেও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাদের বদলি করা হয়েছে।
একদিন আগেই কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে দ্রুত কাজে যোগ দিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশ না মানলে শৃঙ্খলাভঙ্গ, আচরণবিধি ও ফৌজদারি আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।
পরের দিনই অনেক শিক্ষককে বদলির অভিযোগ পাওয়া গেল, যাকে হয়রানিমূলক বদলি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সাড়া মেলেনি।
প্রাথমিক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
রাত সাড়ে ১২টায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাকেসহ সারা দেশে অনেককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।”
দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আরেক আহ্বায়ক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, তিনিসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ৪২ জন সহকারী শিক্ষককে অন্য জেলায় প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে বদলি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাত ১২টার দিকে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রথমে শোকজ ও পরে বদলি করা হলো। এটি হয়রানিমূলক বদলি, আমাদের শাস্তি দিয়েছে। কারণ আমরা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই করেছি। কিন্তু অনেক শিক্ষক যারা আন্দোলনে জড়িত ছিলেন না, তারাও বদলি হয়েছেন।
“আমাদের বদলি করেছেন সেজন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। তবুও আমরা চাই, সরকার সহকারী শিক্ষকদের একাদশ গ্রেডে বেতন দেওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন হোক।”
এদিকে পরিষদের আরেক আহ্বায়ক ও প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম বলেন, “আমাকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বরিশাল সদরের চরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে বদলি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।”
এ সম্পর্কিত আরও খবর:



