বাংলাদেশের মূল দুই ক্রিকেট ভেন্যুর একটি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম বদলে দিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এর সঙ্গে আরেক টেস্ট ভেন্যু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামেরও নাম পাল্টে দিয়েছে তারা।
স্টেডিয়াম দুটি যাদের নামে ছিল তারা দুই জনই মরনোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত।
মুসলিম লীগের রাজনীতি করা জহুর আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০০১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান চট্টগ্রামের এই রাজনীতিবিদ।
১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত মুসলিম লীগের নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি ছিলেম মোহাম্মদ ওসমান আলী। ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৪ সালে তাকে খান সাহেব উপাধি দেয়। ১৯৪৯ সালে তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
পরবর্তী জীবনে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনেও ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০১১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান তিনি।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
এ ছাড়া খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম এখন থেকে শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার স্টেডিয়ামের নাম পাল্টানোর খবর জানানো হয়েছে।
এদিন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় মিলিয়ে মোট ২০টি ক্রীড়া স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাখা হয়েছে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
গত বছরের জুলাই-অগাস্টে গণ আন্দোলন চলাকালে বাসার বারান্দায় খেলার সময় গুলিতে নিহত হয় নারায়ণগঞ্জের ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপ। তার স্মরণেই বদলানো হয়েছে সবশেষ ২০১৫ সালে টেস্ট আয়োজন করা ফতুল্লা স্টেডিয়ামের নাম।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বোর্ড সভায় পূর্বাচলে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম বদলে ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এনসিজি) রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
এ ছাড়াও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দফায় বদলে দেওয়া হয়েছে অনেক ক্রীড়া স্থাপনার নাম।