ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন ভূমিকা, পর্ব-১

USA

রাশিয়া ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরুর দুই মাস পর বসন্তের এক সকালে নম্বর প্লেটহীন একটি গাড়ির বহর কিয়েভ শহরের এক প্রান্তে এসে থামে। সেখান থেকে সাধারণ পোশাক পরা দুই মধ্যবয়সীকে একটি গাড়িতে তোলা হয়।

গাড়ির বহরটি শহর ছেড়ে পশ্চিম দিকে ৪০০ মাইল পথ পাড়ি দেয়। বহরটির নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারি অস্ত্রে সজ্জিত সামরিক পোশাকহীন একদল ব্রিটিশ কমান্ডোর হাতে। তারা পোল্যান্ড সীমান্তে পৌঁছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে সহজেই পার হয়ে যায়। এরপর তারা পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের রঝেসজোভ-যাশিওঙ্কা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে তাদের জন্য একটি সি-১৩০ কার্গো বিমান অপেক্ষা করছিল।

মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তিরা ছিলেন ইউক্রেনের শীর্ষ দুই জেনারেল। তাদের গন্তব্য ছিল জার্মানির ভিজবাডেনে অবস্থিত ক্লে ক্যাসার্ন সামরিক ঘাটিতে। এটি ইউরোপ ও আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়। তাদের বিশেষ দায়িত্ব ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের একটি গোপন পরিকল্পনা তৈরি করা। পরবর্তী সময়ে এটি যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে ওঠে।

জার্মানির ভিজবাডেনে অবস্থিত ক্লে ক্যাসার্ন সামরিক ঘাটি।

শীর্ষ দুই জেনারেলের একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিখাইলো জাব্রডস্কি। কীভাবে তাকে সিঁড়ি বেয়ে ওপরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তা তিনি পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানান। সেখানে তিনি একটি ‍সরু হাঁটার পথ থেকে বিশাল হল রুমের দৃশ্য দেখতে পান। এটি ছিল গ্যারিসনের টনি ব্যাস অডিটোরিয়াম।

যুদ্ধের আগে এটি ছিল একটি জিম। এখানে সেনাবাহিনীর সাধারণ সভা, ব্যান্ড পরিবেশনা এবং স্কাউটদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এখন এই জায়গায় বিভিন্ন দেশের সেনা কর্মকর্তারা অস্থায়ী কক্ষ তৈরি করে কাজ করছেন। তারা ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্র, বিশেষ করে এম৭৭৭ আর্টিলারি ব্যাটারি ও ১৫৫ মিলিমিটার গোলাবারুদের প্রথম চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন।

জেনারেল জাব্রডস্কিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার টি. ডনাহুর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম এয়ারবোর্ন কোরের কমান্ডার ছিলেন। তিনি জাব্রডস্কিকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।

সহযোগিতার বিষয়টি শুধু কিছু আমেরিকান ও মিত্র দেশের কর্মকর্তাদের জানার সুযোগ ছিল। এটি গোয়েন্দা তথ্য, কৌশল, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির সম্মিলিত এক প্রচেষ্টা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসন এই উদ্যোগকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের উপায় হিসেবে দেখছিল। একদিকে, এটি ইউক্রেনকে রক্ষা করার চেষ্টা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বৈশ্বিক শৃঙ্খলাকে বজায় রাখা। এই গোপন সহযোগিতাই পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে ওঠে।

আজ সেই বিশ্বব্যবস্থা ও ইউক্রেনের আত্মরক্ষার লড়াই সঙ্কটের মুখে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চান এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে ইউক্রেন মাঝখানে পড়ে। দেশটি পশ্চিমা দিকে ঝুঁকছিল। এতে ভয় পাচ্ছিল মস্কো। এখন যখন শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন ট্রাম্প ইউক্রেনকে অন্যায়ভাবে যুদ্ধ শুরুর জন্য দায়ী করেছেন। তিনি দেশটির ওপর খনিজ সম্পদের বড় অংশ ত্যাগ করার চাপ দিয়েছেন এবং নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা ছাড়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বলেছেন। এটি এমন এক শান্তি প্রস্তাব, যেখানে ভবিষ্যতে শান্তি থাকবে কি না, তা অনিশ্চিত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরইমধ্যে ২০২২ সালের বসন্তে ভিজবাডেনে গঠিত সেই সহযোগিতার কিছু অংশ কমিয়ে আনতে শুরু করেছেন। তবে এর ইতিহাস জানা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বুঝতে সাহায্য করে, কীভাবে ইউক্রেন একটি শক্তিশালী ও বৃহৎ শত্রুর বিরুদ্ধে টানা তিন বছর টিকে আছে। একই সঙ্গে এটি বর্তমান সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ কীভাবে পৌঁছেছে, তা বুঝতেও সহায়তা করে।

পেন্টাগন প্রকাশ্যে জানিয়েছে, ইউক্রেনকে এখন পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্ধ বিলিয়নের বেশি ছোট অস্ত্রের গুলি ও গ্রেনেড, ১০ হাজার জ্যাভলিন অ্যান্টি-আর্মার অস্ত্র, ৩ হাজার স্টিঙ্গার অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ব্যবস্থা, ২৭২ হাউইটজার কামান, ৭৬টি ট্যাংক, ৪০টি উচ্চ গতির রকেট সিস্টেম, ২০টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার এবং ৩টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধান দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল, যা আগে বোঝা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে এই সহযোগিতা ছিল ইউক্রেনীয় সামরিক অভিযানের প্রধান ভিত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা হতাহত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, এই সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার।

ভিজবাডেনের মিশন কমান্ড সেন্টারে আমেরিকান ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা একসঙ্গে কিয়েভের পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করে এবং ইউক্রেনের মাটিতে থাকা সেনাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার তথ্য সরবরাহ করে।

এক ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রধান জানান, তিনি বিস্মিত হন যখন দেখেন, ন্যাটোর কর্মকর্তারা কত গভীরভাবে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “তারা এখন হামলার চেইনের অংশ হয়ে গেছে।”

এই সহযোগিতার মূল ধারণা ছিল, ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউক্রেনকে অসম্ভবকে সম্ভব করার সুযোগ দেওয়া। লক্ষ্য ছিল রুশ বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিখাইলো জাব্রডস্কি।

যুদ্ধের শুরুর দিকে একের পর এক সফল হামলা ইউক্রেনীয় সাহস ও কৌশলের ফল। তবে এতে রুশ বাহিনীর দুর্বলতাও ভূমিকা রাখে। প্রতিটি বিজয়ের সঙ্গে দুর্বল পক্ষ হিসেবে ইউক্রেনের এই বড় লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে।

এই সহযোগিতার কার্যকারিতা প্রথম প্রমাণিত হয় রাশিয়ার অন্যতম ভয়ঙ্কর সামরিক দল ৫৮তম কম্বাইন্ড আর্মি গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযানে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি আমেরিকান গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য শনাক্তকরণের সহায়তায় ইউক্রেনীয় বাহিনী খেরসন অঞ্চলে ৫৮তম বাহিনীর সদর দপ্তরে রকেট হামলা চালায়। এতে জেনারেল ও কর্মকর্তারা নিহত হন।

বারবার এই বাহিনী নতুন স্থানে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতিবারই আমেরিকান গোয়েন্দারা তাদের অবস্থান শনাক্ত করত। আর ইউক্রেনীয় বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করত।

আরও দক্ষিণে ইউক্রেন ও তার মিত্ররা নজর দেয় ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল বন্দরের দিকে। এখানেই রাশিয়ার ব্ল্যাক সী ফ্লিট ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই করত যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে। ২০২২ সালের পাল্টা আক্রমণের সময় ভোরের আগে সিআইএ’র সহায়তায় চালানো সামুদ্রিক ড্রোন হামলায় রুশ যুদ্ধজাহাজগুলোর ক্ষতি হয়। এতে বাধ্য হয়ে রাশিয়া তাদের যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নিতে শুরু করে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সহযোগিতায় টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। যুদ্ধের গতিপথ বদলে যায়। এর পেছনে ছিল পারস্পরিক প্রতিযোগিতা, মতানৈক্য ও ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য।

ইউক্রেনীয়রা কখনো কখনো আমেরিকানদের খুব বেশি কর্তৃত্ববাদী ও নিয়ন্ত্রণপরায়ণ মনে করত। অন্যদিকে আমেরিকানরা বুঝতে পারত না, কেন ইউক্রেনীয়রা ভালো পরামর্শ সহজে গ্রহণ করে না।

আমেরিকানরা ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী ছিল। কিন্তু তারা ইউক্রেনীয়দের সবসময় বড় বিজয়ের স্বপ্ন দেখাতে দেখত। অন্যদিকে ইউক্রেনীয়দের মনে হতো, আমেরিকানরা তাদের এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। ইউক্রেন পুরোপুরি বিজয় চেয়েছিল। আর আমেরিকা শুধু নিশ্চিত করতে চেয়েছিল, তারা যুদ্ধ হারবে না।

ইউক্রেনীয়রা যতই এই সহযোগিতায় সফলতা পেতে লাগলো, ততই তারা নিজেদের পরিকল্পনা গোপন রাখতে শুরু করল। তারা বারবার ক্ষুব্ধ হয়েছিল এই কারণে যে, আমেরিকা সব ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম দিতে পারেনি বা দিতে চায়নি। অন্যদিকে আমেরিকানরা মনে করত, ইউক্রেনীয়দের দাবিগুলো অযৌক্তিক। তারা এ নিয়েও বিরক্ত ছিল যে, ইউক্রেনীয়রা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে অনাগ্রহী। অথচ এমন সিদ্ধান্ত তাদের তুলনামূলক ছোট বাহিনীকে শক্তিশালী করতে পারত।

কৌশলগত দিক থেকে এই সহযোগিতা একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়—২০২৩ সালের মাঝামাঝি। সেসময় ইউক্রেন আগের বিজয়ের ধারা বজায় রাখতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। তখন ভিজবাডেনে তৈরি কৌশল ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার সামরিক প্রধান (যিনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীও হতে পারেন) পরস্পরের বিরোধিতায় জড়ান। সামরিক প্রধানের সঙ্গে তার অধীনস্থ এক কমান্ডারের মতবিরোধ তৈরি হয়।

জেলেনস্কি অধীনস্থ কমান্ডারের পক্ষ নেন। ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুল সেনা ও সম্পদ ব্যয় করে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাখমুত শহর পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত এটি ব্যর্থ হয়। কয়েক মাসের মধ্যে পুরো পাল্টা আক্রমণ পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে।

এই অংশীদারত্ব কাজ করেছিল গভীর ভূ-রাজনৈতিক আশঙ্কার মধ্যে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এটিকে সামরিক সম্পৃক্ততার জন্য একটি লাল রেখা অতিক্রম বলে মনে করতে পারেন এবং তার বারবার করা পারমাণবিক হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন—এই ভয় ছিল প্রধান। এই অংশীদারত্বের ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা ও তার মিত্ররা কতটা কাছাকাছি গিয়েছিল সেই সীমারেখার। ক্রমবর্ধমান ভয়াবহ পরিস্থিতি তাদেরকে আরও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। অনেকের মতে, তারা খুব ধীরে সাড়া দিয়েছিল। পাশাপাশি তারা নিরাপদ থাকতে কঠোর নিয়মও তৈরি করেছিল।

এম৭৭৭ আর্টিলারি ব্যাটারি।

বাইডেন প্রশাসন বারবার গোপন অভিযান অনুমোদন দিয়েছে, যা আগে নিষিদ্ধ ছিল। আমেরিকার সামরিক উপদেষ্টাদের প্রথমে কিয়েভে পাঠানো হয়েছিল। পরে যুদ্ধের আরও কাছাকাছি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ভিজবাডেনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও সিআইএ কর্মকর্তারা রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলা পরিকল্পনায় সহায়তা করেছিল। শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার গভীরে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানোর অনুমতি পায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও সিআইএ।

বিস্তৃত পরিসরে ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রক্সি যুদ্ধের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ১৯৬০-এর দশকের ভিয়েতনাম, ১৯৮০-এর দশকের আফগানিস্তান এবং তিন দশক পর সিরিয়ায় যুদ্ধ—এগুলোর মতোই এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এটি যুদ্ধ পরিচালনার একটি বড় পরীক্ষাও ছিল। এতে শুধু ইউক্রেনীয়দের সাহায্য করেনি, বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

আফগানিস্তানে তালেবান ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে এবং ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় আমেরিকান বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এবং স্থানীয় মিত্রদের সহায়তা করেছিল। কিন্তু ইউক্রেনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়নি। বরং দূর থেকেই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সুনির্দিষ্ট টার্গেটিং পদ্ধতি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে? ইউক্রেনীয় আর্টিলারি সেনারা কি ১,৩০০ মাইল দূরে থাকা আমেরিকান অফিসারদের পাঠানো নির্দিষ্ট স্থানাঙ্কে তাদের হাউইটজারগুলি ছুঁড়বে? আমেরিকান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কি ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা একটি শত্রুপূর্ন গ্রামে তাদের সেনাদের পাঠানোর নির্দেশ দেবেন, যখন সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হবে, “কেউ নেই—এখনই যাও”?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর—সত্যিকার অর্থে নির্ভর করবে কতটা বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে আমেরিকান ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে।

জেনারেল জাব্রডস্কি তাদের প্রথম সাক্ষাতে জেনারেল ডনাহুর কথা মনে করে বলেন, “আমি কখনো তোমাকে মিথ্যা বলব না। তুমি যদি আমাকে মিথ্যা বলো, তাহলে আমরা শেষ। আমি ঠিক একইভাবে অনুভব করি।”

বিশ্বাস ও মৃত্যুদূত পাশাপাশি (ফেব্রুয়ারি-মে, ২০২২)

২০২২ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি ভিজবাডেন গোপন বৈঠকের দুই সপ্তাহ আগে আমেরিকান ও ইউক্রেনীয় নৌ কর্মকর্তারা নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেখতে পান। যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার মতে, “আমেরিকানরা বলে, ‘ওহ, এটা তো মস্কভা!’ ইউক্রেনীয়রা বলে, ‘ও মাই গড। অনেক ধন্যবাদ। বিদায়।’”

মস্কভা ছিল রাশিয়ার ব্ল্যাক সী ফ্লিটের প্রধান জাহাজ। ইউক্রেনীয়রা সেটি ডুবিয়ে দেয়। মস্কভা ডুবানো ছিল একটি বড় সাফল্য। এটি ছিল ইউক্রেনীয় দক্ষতা ও রুশ অযোগ্যতার একটি প্রদর্শনী। তবে এই ঘটনা যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন-আমেরিকা সম্পর্কের বিশৃঙ্খল অবস্থাও প্রকাশ করে।

আমেরিকানদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কারণ ইউক্রেনীয়রা তাদের কোনো পূর্বসতর্কতা দেয়নি। তারা অবাক হয়েছিল যে, ইউক্রেনের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ছিল যা জাহাজটিকে আঘাত করতে সক্ষম। তারা আতঙ্কিত হয়েছিল, কারণ বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে এমন শক্তিশালী রুশ প্রতীকে আঘাত করতে সহায়তা করতে চায়নি।

ইউক্রেনীয়রা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক গভীর সন্দেহ থেকে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। তাদের কাছে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। তখন পুতিন ক্রিমিয়া দখল করেন এবং পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ সৃষ্টি করেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্রিমিয়া দখলের নিন্দা ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।

তবে ওবামা ভয় পেতেন এই ভেবে, আমেরিকার সম্পৃক্ততা পুরোপুরি আক্রমণ শুরু করতে পারে। তাই তিনি সীমিত গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং অনুমোদন করেছিলেন এবং প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার টি. ডনাহু।

সেই সময়কার ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট পেত্রো ও. পোরোশেঙ্কো অভিযোগ করে বলেছিলেন, “কম্বল ও নাইট ভিশন গগলস গুরুত্বপূর্ণ। তবে কম্বল দিয়ে যুদ্ধ জয় করা সম্ভব নয়।” পরবর্তীতে ওবামা সেই গোয়েন্দা সীমাবদ্ধতা কিছুটা শিথিল করেন এবং ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে তা আরও শিথিল করে ইউক্রেনীয়দের প্রথম অ্যান্টিট্যাঙ্ক জ্যাভলিন সরবরাহ করেন।

এরপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পূর্বমুহূর্তে বাইডেন প্রশাসন কিয়েভের দূতাবাস বন্ধ করে এবং সমস্ত সামরিক কর্মীকে দেশে ফিরিয়ে নেয়। (সিআইএর একটি ছোট দল সেখানে অবস্থান করতে পেরেছিল)। ইউক্রেনীয়দের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেছিলেন, “আমরা তাদের বলেছিলাম, ‘রুশরা আসছে—বিদায়।’”

আমেরিকান জেনারেলরা যখন আক্রমণের পর সাহায্য প্রস্তাব করেন, তখন তারা এক বড় ধরনের অবিশ্বাসের মুখোমুখি হন। ইউক্রেনের গ্রাউন্ড ফোর্সেস কমান্ডার কর্নেল জেনারেল অলেকসান্দ্র সিরস্কি প্রথমবার আমেরিকানদের বলেছিলেন, “আমরা রুশদের সঙ্গে লড়াই করছি, আপনি নন। আমরা কেন আপনাদের কথা শুনব?”

তবে দ্রুতই জেনারেল সিরস্কি মনোভাব পরিবর্তন করেন। কারণ আমেরিকানরা এমন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য দিতে পারত, যা তার সেনারা কখনোই দিতে পারত না।

প্রথম দিকে জেনারেল ডনাহু এবং তার কয়েকজন সহকারী তাদের ফোন ছাড়া আর কিছু না নিয়ে রুশ সেনার গতিবিধি সম্পর্কে জেনারেল সিরস্কি ও তার স্টাফকে তথ্য পাঠাতেন। তবে এমন অস্থায়ী ব্যবস্থাও ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীতে একটি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করেছিল। বিশেষত জেনারেল সিরস্কি ও তার বস সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ভ্যালেরি জালুজনির মধ্যে। জালুজনি সমর্থকদের কাছে জেনারেল সিরস্কি ইতোমধ্যেই এই সম্পর্ক ব্যবহার করে সুবিধা নিতে চেষ্টা করছিলেন।

অন্যদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল জেনারেল জালুজনির এবং তার আমেরিকান সহকর্মী জেনারেল মার্ক এ. মিলির (জয়েন্ট চীফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান) মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের কারণে।

ফোনালাপে জেনারেল মিলি কখনও কখনও ইউক্রেনীয়দের সরঞ্জাম চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। তিনি তার পেন্টাগন অফিসে থাকা স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধক্ষেত্র পরামর্শ দিতেন। এরপর একটি অস্বস্তিকর নীরবতা থাকত। এর পরেই জেনারেল জালুজনি কথোপকথনটি সংক্ষিপ্ত করে দিতেন। কখনও কখনও তিনি সরাসরি আমেরিকান কর্মকর্তার ফোনকল উপেক্ষা করতেন।

তাদের মধ্যে যোগাযোগ চালিয়ে রাখতে পেন্টাগন একটি জটিল ফোন ট্রি শুরু করে। মিলির একজন সহকারী মেজর জেনারেল ডেভিড এস. বাল্ডউইন ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডারকে ফোন করতেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ধনী ব্লিম্প নির্মাতা ইগর পাস্টারনাককে কল করতেন। তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভের সঙ্গে লভিভে বড় হয়েছেন। এরপর রেজনিকভ জেনারেল জালুজনির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং বাল্ডউইন জেনারেলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলতেন, “আমি জানি আপনি মিলির ওপর ক্ষুব্ধ। কিন্তু আপনাকে তাকে ফোন করতে হবে।”

ওই বছরের মার্চে কিয়েভে আক্রমণ থামিয়ে রুশরা তাদের পরিকল্পনা পুনরায় সাজায়। তারা পূর্ব ও দক্ষিণে অতিরিক্ত সেনা পাঠায়। এটি এমন একটি লজিস্টিক কাজ ছিল যা আমেরিকানরা ভেবেছিল মাসখানেক লাগবে। কিন্তু তারা মাত্র দুই সাপ্তাহে তা সম্পন্ন করে।

জেনারেল ডনাহু এবং ইউএস আর্মি ইউরোপ ও আফ্রিকার কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার জি. কাওলি সিদ্ধান্তে আসেন, যদি ঐক্যবদ্ধ বাহিনী তাদের লক্ষ্য পুনরায় নির্ধারণ না করে, তবে অপর্যাপ্ত সেনা ও অস্ত্রের কারণে ইউক্রেনীয়রা যুদ্ধ হারাবে। অর্থাৎ সহযোগিতামূলক বাহিনীকে ভারী আক্রমণাত্মক অস্ত্র—যেমন এম৭৭৭ আর্টিলারি ব্যাটারি ও শেল সরবরাহ শুরু করতে হবে।

বাইডেন প্রশাসন আগেই বিমানবিধ্বংসী ও অ্যান্টি ট্যাঙ্ক অস্ত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। তবে এম৭৭৭ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এটি মূলত একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে সমর্থন প্রদানের প্রথম পর্যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড জে. অস্টিন তৃতীয় এবং জেনারেল মিলি ১৮তম এয়ারবোর্নকে অস্ত্র সরবরাহ এবং ইউক্রেনীয়দের সেগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আর. বাইডেন জুনিয়র এম৭৭৭ সরবরাহের সম্মতি দিলে টনি বাস অডিটোরিয়াম একটি পূর্ণাঙ্গ সদর দপ্তরে পরিণত হয়।

জেনারেল ডনাহুর ডেপুটি হন একজন পোলিশ জেনারেল। একজন ব্রিটিশ জেনারেল পুরনো বাস্কেটবল কোর্টে লজিস্টিকস হাব পরিচালনা করতেন। একজন কানাডিয়ান প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতেন।

অডিটোরিয়ামের নিচে একটি ফিউশন সেন্টার গড়ে ওঠে। সেখানে রুশ বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থান, গতিবিধি এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য তৈরি করা হতো। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সেখানে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ), ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ), ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এবং ন্যাশনাল জিওস্পেশাল-ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (এনজিএ) কর্মকর্তারা সহযোগী বাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলিত হন।

১৮তম এয়ারবোর্ন ড্রাগন কর্পস হিসেবে পরিচিত। আর নতুন অপারেশনটির নাম ছিল টাস্ক ফোর্স ড্রাগন। সমস্ত উপাদান একত্রিত করতে প্রয়োজন ছিল শুধু ইউক্রেনীয় শীর্ষ কমান্ডের অনিচ্ছুক সমর্থন।

ইউক্রেনের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধ পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা।

এপ্রিলের ২৬ তারিখ জার্মানির রামস্টেইন এয়ার বেসে জেনারেল মিলি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজনিকভ এবং জালুজনির একজন সহকারীকে জেনারেল কাওলি ও ডনাহুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। জেনারেল মিলি তাদের বলেন, “এরা আপনার। আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এরা আপনাদের সাহায্য করবে।”

বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে শুরু করে। রেজনিকভ জেনারেল জালুজনির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন। কিয়েভে ফিরে, “আমরা ওয়িসবাডেনের জন্য একটি প্রতিনিধিদল গঠনের পরিকল্পনা করি। আর এভাবেই শুরু হয়েছিল।” বলেন রেজনিকভ।

এই অংশীদারত্বের মূল ছিলেন দুই জেনারেল—ইউক্রেনীয় জেনারেল জাব্রডস্কি ও আমেরিকান জেনারেল ডনাহু।

জেনারেল জাব্রডস্কি ছিলেন ওয়িসবাডেনের প্রধান ইউক্রেনীয় যোগাযোগ কর্মকর্তা। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে কাজ করছিলেন।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর অনেক সহকর্মীর মতো জেনারেল জাব্রডস্কি শত্রুকে ভালোভাবে জানতেন। ১৯৯০ এর দশকে তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে সেনা একাডেমিতে পড়েছিলেন এবং রুশ সেনায় পাঁচ বছর ছিলেন।

তিনি আমেরিকানদেরও জানতেন। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ফোর্ট লিভেনওর্থ কানসাসে আর্মি কমান্ড এবং জেনারেল স্টাফ কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন। আট বছর পরে জেনারেল জাব্রডস্কি একটি বিপজ্জনক মিশনে রুশ-সমর্থিত বাহিনীর পিছনে পূর্ব ইউক্রেনে গিয়েছিলেন। সেই মিশন ফোর্ট লিভেনওর্থে পড়া কনফেডারেট জেনারেল জে.ই.বি. স্টুয়ার্টের বিখ্যাত গোয়েন্দা মিশনের আদলে ছিল। এটি তাকে পেন্টাগনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নজরে আনে। তারা বুঝতে পারে, তিনি এমন এক নেতা যার সঙ্গে তারা কাজ করতে পারে।

জেনারেল জাব্রডস্কি মনে করেন ভিজবাডেনের প্রথম দিনটি স্মরণীয় ছিল: “আমার মিশন ছিল জানার জন্য: এই জেনারেল ডনাহু কে? তার কতটা ক্ষমতা আছে? সে আমাদের জন্য কতটুকু করতে পারবে?”

জেনারেল ডনাহু বিশেষ বাহিনীর গোপন কার্যক্রমে একজন তারকা ছিলেন। সিআইএ’র কিল টিম ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে তিনি ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী নেতাদের শিকার করেছেন। ডেল্টা ফোর্সের নেতা হিসেবে তিনি সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে একটি অংশীদারত্ব গড়তে সাহায্য করেছিলেন। জেনারেল কাওলি একবার তাকে “একটি কমিক বইয়ের অ্যাকশন হিরো” হিসেবে তুলনা করেছিলেন।

জেনারেল ডনাহু, জেনারেল জাব্রডস্কি ও তার সহযাত্রী মেজর জেনারেল অলেকজান্ডার কিরাইলেঙ্কোকে তাদের দেশের অবরুদ্ধ পূর্ব ও দক্ষিণ অংশের একটি মানচিত্র দেখান। সেখানে রুশ বাহিনী তাদের বাহিনীর তুলনায় অনেক বড়। 

“স্লাভা ইউক্রাইনি” যুদ্ধকালীন ধ্বনিকে সামনে এনে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন: “তুমি যেভাবে খুশি ‘স্লাভা ইউক্রাইনি’ বলতে পারো। আমি দেখছি না তুমি কতটা সাহসী। সংখ্যা দেখো।” এরপর তিনি জেনারেল জাব্রডস্কিকে একটি পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিলেন। যার মাধ্যমে পতনের আগে যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা লাভ করা সম্ভব হবে।

প্রথম ধাপ শুরু হয়ে যায় — ইউক্রেনীয় আর্টিলারি সৈন্যদের তাদের নতুন এম৭৭৭ দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। তারপর টাস্ক ফোর্স ড্রাগন তাদের রুশ আগ্রাসন থামাতে এই অস্ত্র ব্যবহারে সহায়তা করে। এরপর ইউক্রেনীয়দের কাউন্টারঅফেন্সিভ করতে হয়।

সেই সন্ধ্যায় জেনারেল জাব্রডস্কি কিয়েভে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি লিখলেন।

“অনেক দেশ ইউক্রেনকে সমর্থন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু কেউ একজনকে সমন্বয়ক হতে হবে, সবকিছু সংগঠিত করতে হবে, বর্তমান সমস্যা সমাধান করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আমাদের কী প্রয়োজন তা জানাতে হবে। আমি প্রধান কমান্ডারকে বলেছিলাম, ‘আমরা আমাদের সঙ্গী খুঁজে পেয়েছি।’”

শীঘ্রই ইউক্রেনীয়রা, মোট ২০ জন — গোয়েন্দা কর্মকর্তা, অপারেশন পরিকল্পনাকারী, যোগাযোগ এবং অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞ ভিজবাডেনে পৌঁছাতে শুরু করেন। প্রতিদিন সকালে ইউক্রেনীয়রা এবং আমেরিকানরা মিলিত হয়ে রুশ অস্ত্র ব্যবস্থা ও স্থল বাহিনী পর্যালোচনা করত এবং সবচেয়ে মূল্যবান লক্ষ্য নির্ধারণ করত। এরপর প্রাধান্য তালিকা গোয়েন্দা ফিউশন সেন্টারে পাঠানো হতো। সেখানে কর্মকর্তারা তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের মধ্যে এই প্রক্রিয়া একটি সূক্ষ্ম কিন্তু জটিল ভাষাগত বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল: মিশনের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, “টার্গেটস” শব্দটি ব্যবহার করা কি অত্যন্ত উসকানিমূলক ছিল?

কিছু কর্মকর্তা মনে করেছিলেন “টার্গেটস” শব্দটি উপযুক্ত। অন্যরা তাদের “ইন্টেল টিপার” বলতেন। কারণ রুশরা প্রায়ই স্থান পরিবর্তন করত এবং তথ্যটি মাঠে যাচাই করার প্রয়োজন ছিল।

এই বিতর্কটি ইউরোপীয় কমান্ডের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল টিমোথি ডি. ব্রাউন সমাধান করেন। রুশ বাহিনীর অবস্থান হবে “পয়েন্টস অব ইন্টারেস্ট”। আকাশযান সংশ্লিষ্ট হুমকি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য হবে “ট্র্যাকস অব ইন্টারেস্ট”।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করে বলেন, “যদি কখনও প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি ইউক্রেনীয়দের কোনো লক্ষ্য (টার্গেট) পাঠিয়েছেন?’ আপনি বৈধভাবে বলতেই পারবেন, ‘না, আমি পাঠাইনি,’”

প্রত্যেকটি পয়েন্ট অব ইন্টারেস্টকে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিংয়ের নিয়ম অনুসারে থাকতে হবে, যাতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে রুশ প্রতিশোধের ঝুঁকি কমানো যায়।

কিয়েভের প্রান্তে রুশ আর্টিলারি।

রুশ ভূখণ্ডে কোনো পয়েন্টস অব ইন্টারেস্ট থাকবে না। জেনারেল জাব্রডস্কি ব্যাখ্যা করে বলেন, যদি ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা রাশিয়ায় হামলা করতে চান, তাহলে তাদের নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে। এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের বার্তা রুশদের প্রতি ছিল, ‘এই যুদ্ধ ইউক্রেনে হওয়া উচিত।’”

হোয়াইট হাউস “কৌশলগত” রুশ নেতাদের, যেমন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা বলেন, “ভাবুন যদি আমরা জানতাম রুশরা আমাদের চেয়ারম্যানকে হত্যার জন্য অন্য কোনো দেশকে সাহায্য করছে। আমরা তো যুদ্ধ শুরু করে দিতাম।” একইভাবে, টাস্ক ফোর্স ড্রাগন ব্যক্তিগত রুশদের অবস্থান সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করতে পারত না।

ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করত, টাস্ক ফোর্স ড্রাগন ইউক্রেনীয়দেরকে রুশ বাহিনীর অবস্থান জানাতো। তবে রুশ গুপ্তচরদের থেকে গোয়েন্দা তথ্যের উৎস ও পদ্ধতি সুরক্ষিত রাখতে, তারা কখনোই বলত না তারা কীভাবে তথ্যটি পেয়েছে। 

ইউক্রেনীয়রা শুধুমাত্র একটি সুরক্ষিত ক্লাউডে সমন্বয় সুত্র দেখতো, যা শ্রেণীভুক্ত হতো — প্রাধান্য ১, প্রাধান্য ২ ইত্যাদি। যেমন জেনারেল জাব্রডস্কি মনে করেন, যখন ইউক্রেনীয়রা জিজ্ঞেস করেছিল কেন তারা গোয়েন্দা তথ্যের ওপর বিশ্বাস করবে, জেনারেল ডোনাহু তাদের বলেছিলেন: “আমরা কীভাবে জানলাম সে সম্পর্কে চিন্তা করবেন না। শুধু বিশ্বাস করুন, যখন আপনি গুলি করবেন, তা ঠিক লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে পৌঁছাবে এবং আপনি ফলাফল পছন্দ করবেন। আর যদি না পছন্দ করেন, আমাদের বলুন, আমরা এটিকে আরও ভালো করে দেব।”

মে মাসে ব্যবস্থাটি কার্যকর হয়। প্রথম লক্ষ্য ছিল জুপার্ক নামে একটি রাডার সজ্জিত আর্মর্ড যান। রুশরা ইউক্রেনীয় এম৭৭৭ চিহ্নিত করতে পারত ওই জুপার্ক দিয়ে। ফিউশন সেন্টার দনেৎস্কের কাছে একটি জুপার্ক খুঁজে পেয়েছিল, যা রুশদের দখলে ছিল।

ইউক্রেনীয়রা একটি ফাঁদ পেতে প্রস্তুত হলো: প্রথমে তারা রুশ লাইনগুলোর দিকে গুলি চালাবে। যখন রুশরা জুপার্কটি চালু করবে আগত গুলির উৎস চিহ্নিত করার জন্য, ফিউশন সেন্টার জুপার্কের স্থান নির্ধারণ করবে এবং আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হবে।

নির্ধারিত দিনে জেনারেল ডনাহু ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাকে উৎসাহিত করেন: “আপনি কি ভালো অনুভব করছেন?” “হ্যাঁ, আমি ভালো অনুভব করছি,” ইউক্রেনীয় জবাব দেয়। তারপর জেনারেল ডনাহু স্যাটেলাইট চিত্র দেখে নিশ্চিত হন যে লক্ষ্য ও এম৭৭৭ সঠিকভাবে অবস্থান করা হয়েছে। তারপরই আর্মি গুলি চালায়, জুপার্কটি ধ্বংস হয়। ঘটনাটি স্মরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, “সবাই বলেছিল, আমরা এটা করতে পারি!”

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল: একক, স্থির লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এটি করার পর, অংশীদাররা কি একটি বড় যুদ্ধে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এই সিস্টেমটি ব্যবহার করতে পারবে?

এটি ছিল দনেৎস্কের উত্তরে সিভিয়েরোদনেৎস্কের যুদ্ধ। সেখানে রুশরা একটি পন্টুন-ব্রিজ দিয়ে নদী পার হয়ে শহরটি ঘেরাও এবং দখল করার পরিকল্পনা করছিল। জেনারেল জাব্রডস্কি একে “ভয়ানক লক্ষ্য” বলে উল্লেখ করেছিলেন।

যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউক্রেনীয় বিজয় হিসেবে ব্যাপকভাবে রিপোর্ট হয়েছিল। পন্টুন ব্রিজগুলো মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছিল। ইউক্রেনীয়দের অনুমান অনুযায়ী, কমপক্ষে ৪০০ রুশ সেনা নিহত হয়েছিল। তখন কেউ জানত না যে, আমেরিকানরা সেই লক্ষ্যবস্তুগুলির তথ্য সরবরাহ করেছিল যা রুশ আক্রমণ রোধে সাহায্য করেছিল।

প্রথম মাসগুলোতে লড়াই প্রধানত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাও রুশ সেনাদের নড়াচড়া ট্র্যাক করছিল। বিশেষ করে খেরসনের বড় শহরের কাছাকাছি সেনা সমাবেশ। কিছুদিন পর, বেশ কয়েকটি এম৭৭৭ ক্রু পুনঃস্থাপন করা হয় এবং টাস্ক ফোর্স ড্রাগন রাশিয়ান অবস্থান আঘাত করার জন্য পয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট সরবরাহ করতে শুরু করে।

টাস্ক ফোর্স ড্রাগন পয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট দ্রুত তৈরি করতে শুরু করে এবং ইউক্রেনীয়রা সেগুলোর উপর দ্রুত আঘাত করতে সক্ষম হয়। যত বেশি তারা এম৭৭৭ এবং একই ধরনের সিস্টেম ব্যবহার করে তাদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছিল, তত বেশি নতুন সিস্টেম পাঠানো হয়েছিল।

জেনারেল জাব্রডস্কি বলেন, “আপনি জানেন, আমরা কখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম? যখন ডনাহু বলেছিল, ‘এটি অবস্থানের একটি তালিকা’। আমরা তালিকা পরীক্ষা করলাম এবং বললাম, ‘এই ১০০টি অবস্থান ভালো, তবে আমাদের অন্যান্য ৫০টি দরকার।’ এবং তারা ওই ৫০টি পাঠিয়েছিল।”

এম৭৭৭ গুলো ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছিল। তবে এগুলো সাধারণত ১৫ মাইলের বেশি দূরত্বে ১৫৫-মিলিমিটার শেল ছুঁড়তে পারত না। রাশিয়ার মানুষের সংখ্যা ও সরঞ্জামের বিশাল শ্রেষ্ঠত্বের সামনে এগুলো তেমন কার্যকর ছিল না।

ইউক্রেনীয়দের জন্য সঠিকতা, গতি এবং পরিসরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার জন্য জেনারেল ক্যাভোলি ও ডনাহু শীঘ্রই একটি বড় পদক্ষেপ প্রস্তাব করেন — হিমরাস (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) প্রদান। এটি স্যাটেলাইট-গাইডেড রকেট ব্যবহার করে ৫০ মাইল দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এতে অনিচ্ছুক ছিলেন। কারণ তারা সেনাবাহিনীর সীমিত হিমরাস মজুদ কমাতে চাইছিলেন না। তবে মে মাসে জেনারেল ক্যাভোলি ওয়াশিংটনে গিয়ে এমন একটি যুক্তি উপস্থাপন করেন যা তাদের রাজি করায়।

তৎকালীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেলেস্ট ওয়ালান্ডার স্মরণ করেন, “মিলি সর্বদা বলতেন, ‘তোমাদের ছোট রাশিয়ান সেনাবাহিনী একটি বড় রাশিয়ান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে। তারা একইভাবে লড়ছে, আর ইউক্রেনীয়রা কখনও জিতবে না।’” জেনারেল ক্যাভোলির যুক্তি ছিল, “হিমরাস দিয়ে তারা আমাদের মতো লড়তে পারবে, এবং এর মাধ্যমেই তারা রাশিয়ানদের পরাজিত করবে।”

হিমরাস (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম)। এটি স্যাটেলাইট-গাইডেড রকেট ব্যবহার করে ৫০ মাইল দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

হোয়াইট হাউসে বাইডেন ও তার উপদেষ্টা এই যুক্তিটিকে রাশিয়ানদের উপর চাপ প্রয়োগের ফলে পুতিনের উদ্বেগ বাড়িয়ে যুদ্ধের পরিসর সম্প্রসারণের সম্ভাবনার সঙ্গে তুলনা করছিলেন। যখন জেনারেলরা হিমরাস চেয়েছিল, এক কর্মকর্তা স্মরণ করেন, সেই মুহূর্তটি ছিল “একটি সীমারেখায় দাঁড়িয়ে, ভাবছেন, যদি এক পদক্ষেপ এগিয়ে যান, তাহলে কি বিশ্বযুদ্ধ তৃতীয় শুরু হয়ে যাবে?”। হোয়াইট হাউস যখন সেই পদক্ষেপটি নেয়, তখন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, টাস্ক ফোর্স ড্রাগন “যুদ্ধের পুরো ব্যাক অফিস” হয়ে উঠছিল।

ভিজবাডেন প্রতিটি হিমরাস আক্রমণ তদারকি করবে। জেনারেল ডনাহু ও তার সহকর্মীরা ইউক্রেনীয়দের টার্গেট লিস্ট পর্যালোচনা করবেন এবং তাদের লঞ্চারগুলোর অবস্থান ও আক্রমণের সময়ের পরামর্শ দেবেন। ইউক্রেনীয়দের শুধুমাত্র আমেরিকানদের দেওয়া কোঅর্ডিনেট ব্যবহার করার কথা ছিল। ওয়্যারহেড ফায়ার করতে হিমরাস অপারেটরদের একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক কী কার্ড দরকার ছিল, যা আমেরিকানরা যেকোনো সময় নিষ্ক্রিয় করতে পারত।

হিমরাস আক্রমণে প্রতি সপ্তাহে ১০০ বা তার বেশি রাশিয়ান সেনা নিহত বা আহত হতো। রাশিয়ান বাহিনী হতবিহ্বল ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের মনোবল পড়ে গিয়েছিল এবং এর সঙ্গে তাদের লড়াই করার ইচ্ছাও কমে গিয়েছিল। হিমরাসের সংখ্যা ৮ থেকে ৩৮ হয়ে গেলে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী আরও দক্ষ হয়ে উঠলে, এক আমেরিকান কর্মকর্তা বলেছিলেন, নিহতের সংখ্যা পাঁচগুণ বেড়ে গিয়েছিল।

জেনারেল সাব্রডস্কি ব্যাখ্যা করেছিলেন, “আমরা আপনার সিস্টেমের একটি ছোট অংশ হয়ে গিয়েছিলাম, হয়তো সবচেয়ে ভালো অংশ নয়, তবে একটি ছোট অংশ। বেশিরভাগ দেশ এটি ১০, ২০ বা ৩০ বছর ধরে করেছিল। কিন্তু আমাদের এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে করতে হয়েছিল।”

একত্রে এই অংশীদাররা একটি মৃত্যুযন্ত্র তৈরি করছিল।

চলবে …

আরও পড়ুন