বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক খবর দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান প্রতিবেদন করেছে দেশের সংবাদপত্রগুলো। এর মধ্যে ঈদুল ফিতর ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্ম-তৎপরতার খবর গুরুত্ব পেয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে। এর বাইরে ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক, বিদেশে চিকিৎসা করাতে বাংলাদেশিদের বিপুল অর্থ ব্যয়, প্রাথমিক শিক্ষায় মানের অবনতি, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি ও অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিচারের খবরও গুরুত্ব পেয়েছে সংবাদপত্রগুলোতে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বৃহস্পতিবার কোন সংবাদপত্র কোন খবরকে প্রধান শিরোনাম করেছে।

সমকাল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে সমকাল। ‘ঈদেও নিষ্ক্রিয় সেই সব কিংস পার্টি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো এখন নিষ্ক্রিয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকে এসব দলের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ছে না। রমজান ও ঈদেও অধিকাংশ দলের তৎপরতা ছিল না। কোনো কোনো দল অবশ্য বক্তৃতা-বিবৃতি আর রাজপথে ছিটেফোঁটা কর্মসূচি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা ‘কিংস পার্টি’র মূল তিনটি দল হচ্ছে তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নিবন্ধন পায় এই তিনটি রাজনৈতিক দল। সে সময় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনে আসন সমঝোতার জন্য দেনদরবারও করে তারা। যদিও কোনো দলকে আসন ছাড় দেয়নি আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক পালাবদলের পর কোনো কোনো মহল থেকে আওয়ামী লীগের ‘সহযোগী’ আখ্যা দেওয়ায় বেশ বেকায়দায় আছেন দল তিনটির নেতারা। আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া এসব দলের নেতারা অবশ্য নিজেদের ‘কিংস পার্টি’ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে গিয়েছিলেন তারা। তবে তারা কখনোই আওয়ামী লীগের ‘সহযোগী’ হিসেবে কাজ করেননি। বরং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষেই ছিলেন।

প্রথম আলো
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে– এমন খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে প্রথম আলো। ‘ইউনূস-মোদি বৈঠক কাল ব্যাংককে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকটি হচ্ছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আগামীকাল শুক্রবার দুপুরে দুই প্রতিবেশী দেশের নেতাদের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা ও দিল্লির কর্মকর্তারা।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটাই হবে ইউনূস–মোদির প্রথম সাক্ষাৎ। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংককে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো দুই নেতার বৈঠকের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। জানতে চাইলে ব্যাংকক থেকে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক যে হতে চলেছে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে আশাবাদী।’

কালের কণ্ঠ
বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ খরচ করে– বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন তথ্যের বরাতে করা খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে কালের কণ্ঠ। ‘চিকিৎসায় বিদেশে যাচ্ছে বিপুল অর্থ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারত ভিসা সীমিত করায় দেশের রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমেছে। এতে অনেক রোগী এখন দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই সুযোগে দেশের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসাসেবায় আস্থার সংকট কাটানোর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নতমানের হাসপাতাল তৈরি ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ালে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, এই খরচ আরো অনেক বেশি।

ইত্তেফাক
৩৩ হাজার ৪৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেও প্রাথমিক শিক্ষার মানের অবনতি ঠেকানো যায়নি– এমন খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে ইত্তেফাক। ‘প্রাথমিক শিক্ষায় মানের অবনতি এক যুগেও ঠেকানো যায়নি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এজন্য উন্নত দেশগুলোয় প্রাথমিক স্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশেও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের গত এক যুগে দুইটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে ব্যয় হয় ৩৩ হাজার ৪৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু এর সুফল আসেনি। ঠেকানো যায়নি প্রাথমিক শিক্ষার মানের অবনতি। শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট-২০২২’ অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির ৫১ শতাংশ ও পঞ্চম শ্রেণির ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলায় দুর্বল। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৬১ শতাংশ ও পঞ্চম শ্রেণির ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতের দক্ষতায় দুর্বল। তাদের গণিতের দক্ষতা তৃতীয় শ্রেণির উপযোগী নয়।
শিক্ষাবিদরা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের পদ্ধতি ও পরীক্ষা নিয়ে অনেক শোরগোল তোলা হলেও শিক্ষার মানের অবনতি ঠেকানো যায়নি। অবকাঠামো নির্মাণ আর শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে গুরুত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা কতটা শিখতে পারছে, সে বিষয়ে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থী বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। প্রাথমিক স্তরে হাজার হাজার শিক্ষকের পদ খালি রেখে মানসম্পন্ন শিক্ষা আশা করা যায় না। এছাড়া শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যার অনুপাত কম, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভাব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং অপর্যাপ্ত তহবিল প্রাথমিক শিক্ষার মান ক্রমবনতি জন্য দায়ী। সরকারের নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার অভিভাবকরাও শিক্ষার দুরবস্থার কথা জানেন; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেন না।

যুগান্তর
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঈদে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সাংগঠনিক তৎপরতার খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে যুগান্তর। ‘ঈদের মাঠে ভোটের হাওয়া’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের মাঠে বইছে ভোটের হাওয়া। এবার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। এতে ঈদের পাশাপাশি ভোটের আমেজও সৃষ্টি হয়েছে। এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রত্যেকেই আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের কাছে সহযোগিতা চাইছেন। ঈদ পুনর্মিলনী, মতবিনিময় সভা এবং নানা ধরনের সেমিনারে অংশ নিয়ে তারা কৌশলে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন। এতে ঈদকেন্দ্রিক ভোটের রাজনীতি জমে উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া গেলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মুক্ত পরিবেশে সাধারণ মানুষসহ কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙা করতে নিজ নির্বাচনি এলাকায় ছুটে গেছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে এলাকায় ব্যাপক প্রচার ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ দাবির পাশাপাশি ভোটের পক্ষে গণসংযোগে নামাটাই বিএনপি নেতাদের লক্ষ্য। দলের সিংহভাগ নেতাই ঈদের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে নির্যাতিত ও গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীর পরিবারের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এলাকায় গেছেন। লম্বা ছুটি কাজে লাগিয়ে কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙা করতে চাচ্ছে দলটি। বসে নেই তরুণদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতারাও। দলটির অধিকাংশ নেতা এবার নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন। এ ছাড়া তিনটি দলের বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজ নির্বাচনি এলাকায় গিয়েছেন।

বণিক বার্তা
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন করিডোর বিবেচনা করে জাপান এক দশক ধরে বিনিয়োগ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে করা বিশ্লষণমূলক খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে বণিক বার্তা। ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও জাপানের বিপুল বিনিয়োগ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সেভেন সিস্টার্স বলে খ্যাত উত্তর-পূর্বাঞ্চল নানা কারণে আলোচনায় আসে। এ অঞ্চল নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে বিভিন্ন সময়। নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে ভারতের রয়েছে নিজস্ব নীতি ও কৌশল। আবার চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ধরে বাংলাদেশের রয়েছে নিজস্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভাবনা। এসব ভৌগোলিক, রাষ্ট্রীয়, নীতিগত ভিন্নতা থাকলেও জাপান এ দুই অঞ্চলকে একটি অভিন্ন সমন্বিত উন্নয়ন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করেছে। এ কৌশল বাস্তবায়নে গত এক দশকে এ দুই অঞ্চল ঘিরে জাপান বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগ প্রকল্প পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করাই এসব প্রকল্পের লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম-বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কানেক্টিভিটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব জাপান অনেক আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিল। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মাথায় রেখে জাপান এ অঞ্চলে একটা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা দেখেছে। এক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা ছিল। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে জাপানের পরিকল্পনাগুলো ভারত ভালোভাবে দেখেনি। ফলে ভারত বাংলাদেশকে এড়িয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে আসিয়ানের সঙ্গে সংযুক্ত করে উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশকে এড়িয়ে সরাসরি উত্তর-পূর্ব ভারতে বিনিয়োগের বিষয়ে জাপানকে প্রভাবিত করেছিল ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন করিডোর বিবেচনা করে জাপান এক দশক ধরে বিনিয়োগ পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে। তাদের প্রক্ষেপণে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় বিবেচনায় নিয়ে মাতারবাড়ীর মতো প্রকল্পগুলোয় জাপান সম্পৃক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঈদুল ফিতর ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতার খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। ‘সর্বত্র ভোটের আলোচনা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে চলছে ভোটের আলোচনা। ঈদুল ফিতর উদ্যাপনে রাজনৈতিক নেতারা নিজ নিজ সংসদীয় আসনে অবস্থান করার কারণে এ আলোচনা এখন তুঙ্গে। রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান ও ঈদ উদ্যাপন উপলক্ষ করে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা অংশ নিয়েছেন নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে। তাঁদের এ আনুষ্ঠানিক গণসংযোগের সঙ্গে ছিল সাধারণের মধ্যে ভোট আসলে কবে হবে তা নিয়ে নানা আলোচনা, জল্পনাকল্পনা। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে শহর-বন্দর, গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার নির্বিশেষে সর্বত্র চায়ের দোকানে, বন্ধু আড্ডায় ঝড় উঠেছিল নির্বাচনি আলোচনার।
এবারের ঈদে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করেছেন। তাঁরা নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগসহ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে।

আজকের পত্রিকা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মপরিকল্পনার খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে আজকের পত্রিকা। ‘সীমানা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে ইসি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তালিকা নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম প্রায় শেষ। অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করতে আগস্টের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে চায় কমিশন। আরও কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন। তবে আইন সংশোধন না হওয়ায় ইসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুরু করতে পারছে না। এ জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন কিছুদিন আগেই বলেছেন, সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য তাঁদের কাছে অনেক আবেদন আসছে। তিনি তখন বলেন, আইন সংশোধন না করলে আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা যাবে না।

কালবেলা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে কালবেলা। ‘নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন নেতারা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না দিলেও নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ঈদে বাড়ি গিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে নির্বাচনী ‘সালাম’ দিচ্ছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) প্রায় সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী আসনে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই তারা নিজ নিজ আসনের তৃণমূল মানুষের সঙ্গে নিবিড় এবং গভীর সম্পর্ক তৈরিতে ব্যস্ত। ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে এবং দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তৎপর সবাই।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন মাথায় রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা রমজানজুড়ে ইফতার-রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ঈদ উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীসহ নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য উপহার এবং জাকাত-ফিতরা বিতরণ করেছেন। এখন ঈদের পর জেলা-উপজেলায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী করছেন তারা। যদিও বিএনপির হাইকমান্ড প্রার্থী বাছাইয়ে এবার কয়েক দফায় যাচাই-বাছাই করবে বলে জানা গেছে। তবে জামায়াতে ইসলামী প্রায় তিনশ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছে।

দেশ রূপান্তর
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে– এমন খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে দেশ রূপান্তর। ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রায় ২০ অভিযোগ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। ‘সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে অপরাধের ষড়যন্ত্রকারী, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে তার বিচারের উদ্যোগ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটশন। ট্রাইব্যুনালের একাধিক প্রসিকিউটর দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জুলাই-আগস্টে গণহত্যার অভিযোগে প্রধান আসামি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় এসেছে বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তবে তদন্তের খসড়ায় অভিযোগ এবং অন্যান্য বিষয় কী আছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।