হামাসকে সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প, কী চায় আমেরিকা?

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা।

১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরের মধ্যে গাজায় আটকে রাখা সব জিম্মিকে মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি বাতিলের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে গাজায় ‘নরক গুলজার’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় শনিবার ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া স্থগিত করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এর পরই যুদ্ধবিরতি বাতিলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

ওভাল অফিসে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যদি শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সমস্ত বন্দী ফেরত পাঠানো না হয়, আমি বলব, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করুন। সব কিছু উল্টে যাবে, খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে।”

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “ইসরায়েল এই বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করতে পারে এবং তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে পারেন।”

বন্দীরা ধাপে ধাপে নয়, একসাথে মুক্তি পাওয়ার পক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জর্ডান এবং মিশর গাজা থেকে স্থানান্তরিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ না করলে, তাদের সাহায্য স্থগিত করারও হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

১৫ মাস রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এরই মধ্যে হামাসের কাছে বন্দী থাকা ১৬ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মুক্তি পাচ্ছেন ইসরায়েলে বন্দী কয়েকশ’ ফিলিস্তিনিও।

এ ধারাবাহিকতায় শনিবার আরও তিনজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল হামাসের। কিন্তু সোমবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামাস জিম্মি মুক্তি স্থগিত করে।

যদিও হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত পূরণ করলে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান জিম্মি-বন্দী বিনিময় চুক্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী শনিবার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সোমবার বিকেলে হামাসের নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত বন্দী বিনিময়ের পাঁচ দিন আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘোষণা (স্থগিতের) দিয়েছিল হামাস। এর উদ্দেশ্য ছিল চুক্তির শর্ত পূরণের জন্য যাতে (ইসরায়েলি) দখলদারির বিরুদ্ধে চাপ তৈরির জন্য মধ্যস্থতাকারীরা পর্যাপ্ত সময় পান। দখলদারেরা চুক্তির শর্ত মেনে চললে পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে বন্দী বিনিময়ের কাজ এগিয়ে নিতে দরজা খোলা থাকবে।’

এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির পুরোপুরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ইসরাইল।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘হামাস জিম্মি মুক্তি বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির পুরোপুরি লঙ্ঘন। আমি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে গাজায় সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি।’

আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামাসের ঘোষণার বিষয়ে জিম্মি ব্যক্তিদের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েল এবং হামাস ৬ সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রয়েছে। এই চুক্তির আওতায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে বন্দী হওয়া ইসরায়েলিদের মুক্তির বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে।

চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হবে ১ মার্চ। দ্বিতীয় ধাপে সব বন্দীর মুক্তি এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি থাকার কথা। তবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চুক্তির তৃতীয় অংশে গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠনের জন্য একটি বহু-বছরের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করারও কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন