ট্রাম্পের চিঠি পাওয়ার কথা কেন অস্বীকার করল ইরান?

usa-iram

পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়ে ইরানকে চিঠি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান বলছে এখনো কোনো চিঠি পায়নি।

‘ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি আশা করেন ইরান আলোচনার টেবিলে বসবে।

চিঠির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমি আশাবাদী ইরান আলোচনায় রাজি হবে। কারণ সেটা ওদের পক্ষে ভাল।’’

তবে ইরান যদি তার প্রস্তাব মেনে আলোচনায় না বসে বিকল্প পথের কথা ভাবে, তা মোটেই ফল ভাল হবে না বলেও হুমকি দেন ট্রাম্প।

তার কথায়, ‘‘ইরান যদি বিকল্পের কথা ভাবে, তবে অবশ্যই আমরাও পদক্ষেপ করব। কখনই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারি না।’’

ইরান প্রশাসনের কাকে চিঠি দিয়েছেন ট্রাম্প, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে মনে করা হচ্ছে সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউস এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য দেয়নি।

২০১৫ সালেও ইরানের পারমাণবিক চুক্তির আলাপ-আলোচনা শুরুর আগ পর্যন্ত খামেনির কাছে লেখা চিঠিগুলো গোপন রেখেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য এখনো কোনো চিঠি পায়নি বলে জানিয়েছে ইরান।

ইরান দূতাবাসের এক মুখপাত্র গত শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, “আমরা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো চিঠি পাইনি।”

এদিকে ইরানের ওপর কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে দেশটির সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

আরাঘচি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, “যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বোচ্চ চাপের নীতি এবং হুমকি বজায় রাখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসব না।”

জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি তেল খাতসহ দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে পারমাণবিক আলোচনাসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি পেলে ইরানের ৮৫ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কী প্রতিক্রিয়া দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন