ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কিটো, প্যালিও, হাইপ্রোটিন ডায়েট- এসবের সঙ্গে পরিচিত হলে ধরেই নেওয়া যায় আপনি কমবেশি স্বাস্থ্যসচেতন। কারও কারও কাছে ওজন কমানোর জন্য এসবের গুরুত্ব বেশ, দৈনন্দিন জীবনেও করছেন এর অনুশীলন।
তবে বর্তমান সময়ে অনেকের কাছেই এসব কঠিন বিষয়াদির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ‘ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট’। যদিও ওজন কমাতে এর কার্যকারিতা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। প্রশ্ন ওঠেছে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নিয়েও। তাহলে আসুন জেনে নিই ক্যালোরি ডেফিসিট কী এবং কীভাবে তা কাজ করে।
সচেতন মানুষ বলতেই জানি শরীর সুস্থভাবে কাজ করার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন নির্দিষ্ট মাত্রার ক্যালোরি।
ওয়েবএমডি’র মতে, ক্যালোরি ডেফিসিট তখনই ঘটে যখন আপনি শরীরের চাহিদার তুলনায় কম ক্যালোরি গ্রহণ করেন। ফলে শরীরের হরমোনের স্তর ও জলীয় ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা ফ্যাট ঝরাতে বা বার্ন করতে সাহায্য করে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, কম ক্যালোরি মানেই কি কম খাওয়া?
সঠিক জবাব, ‘না’। পুষ্টিবিদ মোহিতা মাস্কারেনহাস জানাচ্ছেন, বেশিরভাগ মানুষ কম সক্রিয় জীবনযাপনেই অভ্যস্ত। যার ফলে ক্যালোরি খরচ কম হয় এবং ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সঠিক পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ক্যালোরি গ্রহণ করা জরুরি।
তবে এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে যে, প্রথমদিকে এর প্রতিক্রিয়ায় ওজন কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তেমন প্রভাব দেখা নাও যেতে পারে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডিম্পল জাঙ্গদা যেমন বলছেন, ‘শরীর শক্তি সংরক্ষণ করতে শুরু করে, ফলে ডায়েট বন্ধ করার পর ওজন আবার বেড়ে যেতে পারে।’
সেই সঙ্গে রয়েছে পেশি ক্ষয়ের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালোরি ক্ষয়ের ফলে শরীরে ক্লান্তি, মাথাব্যথা হতে পারে। দুর্বলও লাগতে পারে। এতে পেশি বা মাসল ভেঙে শক্তি তৈরি হয়।
আবার যদি খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও শাকসবজি না থাকে, তাহলে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবে পেশি পুনরায় তৈরি হতে বাধা পায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সেজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কেউ যদি ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট করেন, তবে অবশ্যই সঠিক পুষ্টি ও ভারসাম্য বজায় রেখে করা জরুরি। ওজন কমাতে শুধু কম খাওয়ার ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রম নিয়মিত বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে।