শুল্কের মাধ্যমে ট্রাম্প আসলে কী অর্জন করতে চান

trump trade

নির্বাচনী প্রচারের সময় আমদানি শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কেন্দ্রে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় ফিরে বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং আমেরিকার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেন।

তার এই কৌশল—নতুন শুল্ক আরোপ এবং অন্যদের শুল্কের হুমকি দিয়ে সুবিধা আদায়—বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। অধিকাংশ দেশ যেখানে বাণিজ্য বাধা কমানোর চেষ্টা করছে, সেখানে ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছেন।

ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কী করেছেন

এখন পর্যন্ত তিনি কানাডা, মেক্সিকো ও চীন — যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর মনোযোগ দিয়েছেন। এই তিনটি দেশ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাণিজ্যের ৪০ শতাংশের ভাগীদার ছিল।

ট্রাম্প ফেব্রুয়ারির শুরুতে চীন থেকে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার এই শুল্ক দ্বিগুণ করে ২০ শতাংশ করা হয়। একই দিন কানাডা ও মেক্সিকো থেকে পণ্য রপ্তানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ শুরু হয়। এই দুই দেশ উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সহ-সাক্ষরকারী। কানাডা থেকে জ্বালানি পণ্যগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়। তবে তা এক মাস পর কার্যকর হয়।

ট্রাম্প মনে করেন ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করার জন্য। তাই তিনি এই জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।  

এই শুল্কের বাইরে ১২ মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি। আরও কিছু ধাতুর ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে তামার আমদানির ওপর শুল্ক পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার প্রশাসনকে প্রতিটি বাণিজ্যিক অংশীদারের জন্য ‘পাল্টা’ শুল্ক প্রস্তাব করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের কোনো ক্ষতি না হয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, তিনি গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর ও ওষুধের আমদানির ওপর প্রায় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার বাণিজ্য উদ্যোগের আরেকটি অংশ, যা পরে স্থগিত করা হয়েছে। সেটি হলো চীন ও হংকং থেকে ‘ডি মিনিমিস’ পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় বন্ধ করা। এসব পণ্য এমন প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত যা ৮০০ ডলারের কম মূল্যবান। এই পদক্ষেপটি মূলত চীনা ই-কমার্স কোম্পানির ব্যবহৃত একটি শুল্ক-মুক্ত শিপিং রুট বন্ধ করবে, যা আমেরিকান গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়।

সব মিলিয়ে, এসব ঘোষিত পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যকে নতুনভাবে গঠন করতে পারে।

শুল্কের টার্গেট হওয়া দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের পদক্ষেপের ফলে কানাডা ও চীন দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। মেক্সিকোও সম্ভবত একই ধরনের প্রতিশোধ নিতে পারে। পাশাপাশি আইনী চ্যালেঞ্জও আসতে পারে। চীন আমেরিকান কৃষিপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে এবং কিছু প্রতিরক্ষা কোম্পানির কাছে রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।

কানাডা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। প্রথম দফায় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে প্রায় ৩০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে কমলা রস, পিনাট বাটার, ওয়াইন ও কফি। এই শুল্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের সঙ্গে একই সময়ে কার্যকর হবে। দ্বিতীয় দফায় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে ১২৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর। এর মধ্যে থাকবে গাড়ি, ট্রাক, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম।

ট্রাম্পের উদ্দেশ্য কী

জানুয়ারির শুরুতে ট্রেজারি মন্ত্রী হিসেবে স্কট বেসেন্টের নিয়োগের শুনানিতে তিনি সেনেটরদের বলেন, ট্রাম্প শুল্ক তিনভাবে ব্যবহার করবেন: অবিচারমূলক বাণিজ্য প্রথাগুলো ঠিক করার জন্য, যা ট্রাম্প মনে করেন আমেরিকার শিল্প পুনর্জীবিত করবে; ফেডারেল বাজেটের জন্য রাজস্ব বাড়ানোর জন্য, যা ট্রাম্পের কর কাটছাঁট বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করবে; এবং বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বদলে শুল্ক ব্যবহার করবেন, যেগুলো ট্রাম্প মনে করেন অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাম্প শুল্ক ব্যবহার করে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছেন। পাশপাশি বাণিজ্য বৈষম্যের কারণে অন্য দেশগুলোর দেওয়া ‘ধোঁকা’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার কথা জানিয়েছেন। তিনি শুল্ক ও উদ্দীপনা, যেমন দ্রুত অনুমোদন দেওয়া, মিশ্রিত করে কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কারখানা নির্মাণে আগ্রহী করার পরিকল্পনা করেছেন।  

গত অক্টোবরে ব্লুমবার্গের প্রধান সম্পাদক জন মিকলথওয়াইটের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা কোম্পানিগুলো ফিরিয়ে আনব। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পণ্য উৎপাদনের জন্য কর আরও কমিয়ে দেব। শক্তিশালী শুল্কের মাধ্যমে এসব কোম্পানিকে রক্ষা করা হবে।”

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনা পণ্যের ওপর কয়েক দফায় শুল্ক আরোপ করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, তিনি শুল্ক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনর্গঠন শুরু করছেন, কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারী তার পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।

বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে হাওয়ার্ড লুটনিক তার নিয়োগ শুনানিতে এই শুল্ক পরিকল্পনাকে বিশ্বের সম্মান পুনরুদ্ধারের একটি উপায় হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি সেনেটরদের বলেন, “আমাদের মিত্র ও প্রতিপক্ষ সবাই আমাদের সুবিধা নিচ্ছে। তারা আমাদের অসম্মান করছে এবং আমি চাই এটা শেষ হোক।”

শুল্ক থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত কর ছাড়ের খরচ পূরণ করতে সহায়তা করতে পারে। তিনি ২০১৭ সালে তার প্রথম মেয়াদে অনুমোদিত আয়কর কেটে দেওয়ার পরিকল্পনা আরও বাড়াতে চান। এর মধ্যে অনেকগুলো ২০২৫ সালের শেষের দিকে শেষ হয়ে যাবে। তিনি এই কর ছাড়গুলো বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন। যেমন কর্মীদের টিপস ও সামাজিক নিরাপত্তা আয় করের আওতামুক্ত করার মাধ্যমে। এছাড়া তিনি কর্পোরেট কর হার ২১ থেকে ১৫ শতাংশ কমাতে চান।  

এই কর ব্যবস্থাগুলো আগামী ১০ বছরে সরকারের রাজস্বে ৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন লোকসানের কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো গত ৩১ জানুয়ারি সিএনবিসি চ্যানেলকে বলেন, “শুল্ক সহজেই এটা মেটাতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আয়কর এবং অসংখ্য আইআরএস (অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবা) কর্মী থেকে সরে এসে সেই যুগে ফিরতে চান যেখানে শুল্ক সরকারের অনেক খরচ মেটাতে সাহায্য করবে এবং আমাদের কর কমাবে।”

প্রথম মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প।

কূটনীতির হাতিয়ার

বেসেন্টের মতে, ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টিকে পছন্দ করেন না। কারণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ফলে অন্যান্য দেশগুলোকে ডলারের প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন করে। তাই শুল্ককে তিনি আলোচনা ও সমঝোতায় চাপ সৃষ্টি করার উপায় হিসেবে দেখেন।

জানুয়ারিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ট্রাম্প দেশটির ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। কারণ তারা অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ফ্লাইট গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল। তবে দুটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার পর ট্রাম্প তার হুমকি প্রত্যাহার করেন এবং কলম্বিয়া আমেরিকায় বিমান পাঠিয়ে তাদের কয়েকজন নাগরিককে ফিরিয়ে নেয়।

কানাডা, মেক্সিকো ও চীন থেকে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ট্রাম্প যা বলেন তা হলো, “আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য একটি হুমকি, বিশেষত ফেন্টানিল ব্যবহারের ফলে মৃত্যুর মতো জনস্বাস্থ্য সংকট।” মেক্সিকো ও কানাডার ওপর শুল্ক এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ তাদের সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়। তবে ট্রাম্প বলেছিলেন যে এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়।

ট্রাম্পের পদ্ধতি কতটা চরম

চীন, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানির ওপর কিছু পূর্ববর্তী শুল্ক ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের নির্ধারিত স্তরের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি ছিল। তবে এগুলো শুধু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর প্রযোজ্য ছিল। সেগুলো সব ধরনের পণ্যের ওপর আরোপ করা একটি বড় পরিবর্তন।  

আগে তুলনামূলকভাবে উচ্চ শুল্কগুলো আমেরিকার বাণিজ্যের একটি ক্ষুদ্র অংশকে কভার করেছিল। এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির শিল্প পণ্যের ওপর গড় শুল্ক হার ছিল ২ শতাংশ, জানিয়েছে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস। এটি মোট আমদানি মূল্য দিয়ে মোট শুল্ক আয়ের ভাগ হিসেবে হিসাব করা হয়। এই পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাণিজ্যের ৯৪ শতাংশ কভার করে এবং তার অর্ধেক দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশ করেছে।  

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক তার প্রথম মেয়াদে আরোপিত শুল্কের তুলনায় অনেক বেশি। এটি আমেরিকার আমদানির গড় শুল্ক হারকে ১৯৪৩ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে এসেছে।

ল্যাবটি আরও জানায়, নতুন শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারে বাৎসরিক অতিরিক্ত ২ হাজার ডলার খরচ বাড়বে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে, বিশেষ করে যদি অন্যান্য দেশ প্রতিশোধ নেয়।

ট্রাম্পের পদ্ধতি কি নতুন

যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের অধিকাংশ সময়ই আমদানি পণ্যের ওপর ভারী শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে ১৯৩০ সালের পর সরকার মুক্ত বাণিজ্যের ধারণা গ্রহণ করার কারণে এটি ত্যাগ করা হয়। এর একটি বড় কারণ ছিল ১৯৩০ সালের স্মুট-হাউলি ট্যারিফ অ্যাক্ট, যা গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করেছিল। 

ওই আইনটি বিদেশি সরকারের কাছ থেকে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের সৃষ্টি করে। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পায় ও মহামন্দা আরও গভীর হয়। এই বিপর্যয়টি মুক্ত বাণিজ্যের উত্থানের সূচনা করে, যা ১৯৪৭ সালে সাধারণ শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি (জিএটিটি) এবং ১৯৯৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যায়। সেই সময় রিপাবলিকান পার্টি শুল্ক থেকে দূরে ছিল।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুল্ক আবার ফিরে আসে। তখন তিনি আমেরিকান শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে এবং চীনকে অনৈতিক বাণিজ্য আচরণের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করতে শুল্কের পথ অনুসরণ করেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ধারা অব্যাহত রাখেন।

চীন যেভাবে জড়িত

দীর্ঘকাল ধরে মুক্ত বাণিজ্যের প্রতি বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিদলীয় সমঝোতা এবং বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর সমর্থন পেয়েছিল। তারা বিদেশে সস্তা ও দক্ষ সরবরাহ চেইনে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। চীন একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠার পর এই সমঝোতা ভেঙে যায়।

২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে যোগ দেওয়ার পর চীন বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রবেশাধিকার পায়। যদিও সমালোচকদের মতে, এটি মুক্ত বাণিজ্য নিয়মের লঙ্ঘন করেছে—যেমন, তারা তাদের শিল্পকে সহায়তা করেছে এবং চীনে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিকে তাদের প্রযুক্তি সরবরাহ করতে বাধ্য করেছে। বেশ কয়েকজন গবেষক বলছেন, চীনের প্রতিযোগিতা পৃথিবীজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে রেখেছিল। তবে একই সঙ্গে ফ্যাক্টরি কর্মসংস্থান কমে গিয়েছিল। কারণ পূর্ব এশিয়ার দেশটি বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক হয়ে ওঠে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করে, যা ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রায় ৩৮০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ছিল। বাইডেন এই শুল্কগুলো বজায় রাখেন এবং ২০২৪ সালে ১৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আরও শুল্ক বাড়ান।

নতুন শুল্ক আরোপের প্রতি উৎসাহ ইউরোপীয় ইউনিয়নেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত অক্টোবরে চীন থেকে আমদানিকৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে ইইউ।

ট্রাম্প কি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুল্ক বাড়াতে পারেন

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই শুল্ক বাড়ানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আছে কিছু আইনের মাধ্যমে। বিভিন্ন কারণে এটি প্রয়োগ করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি, যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পে ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতি, এবং বিদেশী দেশের অযৌক্তিক বাণিজ্য আচরণ। 

কোম্পানিগুলো চাইলে উচ্চ শুল্কের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করতে পারে। তবে অতীতের অভ্যাস অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, তাই এমন চ্যালেঞ্জগুলো করা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির অফিসের সাবেক পরামর্শক ওয়ারেন মারুয়ামা।

আরও পড়ুন