যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে অভাবনীয় আচরণ করেছেন। দেশটির বিগত আড়াইশ বছরের ইতিহাসে কোনও প্রেসিডেন্ট বিদেশি কোনো নেতার সঙ্গে এমন আচরণ করেননি বলেই ইতিহাসবিদরা বলছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র এনিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
পররাষ্ট্রনীতির শিষ্টাচার বর্হিভূত এমন আচরণ নিয়ে এরই মধ্যে ইউরোপীয় নেতারা মুখ খুলেছেন। এমনকি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেককেও এনিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক মতামত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইচ্ছা করেই জেলেনস্কির জন্য ‘অ্যামবুশ’ পেতেছিলেন, তাকে অপদস্ত করার জন্য।
কিন্তু আলোচনা-সমালোচনার বাইরে দাঁড়িয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন ছুড়েছেন, ট্রাম্প সত্যিই কেন এমন আচরণ করেছেন, যেখানে আরও সহজে তিনি জেলেনস্কিকে চাইলে শায়েস্তা করতে পারতেন।
ইউক্রেন নিয়ে টানা পাঁচ সপ্তাহের আলোচনার পর শুক্রবার ট্রাম্প সবাইকে স্পষ্ট করেই মনে করিয়ে দেন, তিনি আমেরিকার ঐতিহ্যগত শক্তির উৎস। তিনি সমমনা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যকার আলোচনায় ফিরিয়ে নিতে চান।
ট্রাম্প প্রশ্ন রেখেছেন —তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ইউক্রেনকে কতটা ত্যাগ করতে প্রস্তুত? নিজের প্রশ্নের উত্তর তিনি শুক্রবার ওভাল অফিসে বহু ক্যামেরার সামনে তার আচরণ দিয়েই প্রকাশ করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সতর্ক করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা আপনার নেই।” আর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইউক্রেনের নেতাকে “শিষ্টাচার বর্হিভূত ও অকৃতজ্ঞ” বলে অভিযোগ করেন। এমন বক্তব্য স্পষ্টতই বোঝায় যে, ওয়াশিংটন ও কিয়েভের তিন বছরের যুদ্ধকালীন অংশীদারত্ব ভেঙে গেছে।
উভয় দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা যাবে কি না, তাদের মধ্যে খনিজ সংক্রান্ত চুক্তি হবে কি না, তা নিকট আগামীই বলে দেবে। যদিও শুক্রবারই কথা ছিল ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হবে। ট্রাম্পও মিডিয়াকে এমনটাই জানিয়েছিলেন।
কিন্তু বড় সত্য হলো, ওভাল অফিসের ওই তীব্র আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ শুধু আমেরিকান ও ইউরোপীয় দর্শকদের জন্য নয়, পুতিন ও ক্রেমলিনকে দেখানোরও উদ্দেশ্য ছিল। ওই ঘটনা স্পষ্ট করেছে যে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে একটি বাধা হিসেবে দেখেন। কারণ দেশটি তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রকল্পের জন্য বিপত্তি।
ইউরোপের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, ট্রাম্প আসলে চান রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে। যদি এর মানে হয় মস্কোর তিন বছর আগে অবৈধ আক্রমণের ইতিহাস পুনরায় লেখা, রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধের তদন্ত বন্ধ করা অথবা ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না দেওয়া, তবে ট্রাম্প তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী সে চুক্তি করতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একসময় ইউক্রেন ও তার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ট্রাম্পের ক্ষমতার কৌশলের সমর্থক। ব্রেইটবার্ট নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরিষ্কার জানান, এখন যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে একটি ত্রিমুখী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।
মার্কো রুবিও বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু আমাদের উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা জরুরি।” রাশিয়ার প্রসঙ্গে আলাপের সময় তিনি খুব সাবধানে শব্দচয়ন করেন। অথচ সেনেটর থাকাকালে তিনিই রাশিয়াকে আক্রমণকারী বলতেন। রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য শাস্তি না পেলে দেশটি হয়তো পরবর্তীতে অন্য একটি ন্যাটো সদস্য দেশকে লক্ষ্য করবে, এমনটাও বলতেন তিনি।
রাশিয়া ও চীন সম্পর্কে তিনি বলেন, “এগুলো বড় ও শক্তিশালী দেশ। তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত আছে। তারা বিশ্বের নানা জায়গায় শক্তি প্রক্ষেপণ করতে পারে। আমি মনে করি, আমরা কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিপক্বতা ও বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছি।”
ট্রাম্প অবশ্য রুবিওর মতো গোপন না করেই বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ওয়াশিংটন যে ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা আমেরিকার শক্তি কমিয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদে বিশ্বাসী মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্যায়ন করত, এমনকি সেই জোটগুলোর কারণে আমেরিকান ভোক্তাদের কিছু ক্ষতি হলেও। এটি এমন এক ব্যবস্থা ছিল যা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সীমানার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
ট্রাম্পের মতে, সাবেক ব্যবস্থা ছোট ও কম শক্তিশালী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে আমেরিকানদেরকে মিত্রদের রক্ষা ও তাদের সমৃদ্ধি ঘটাতে খুব বেশি খরচ বহন করতে হয়েছে।
ট্রাম্পের পূর্বসূরীরা — ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়ই মনে করতেন, ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে জোট থাকা আমেরিকার সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি শান্তি বজায় রাখে ও বাণিজ্যকে বিকশিত হতে দেয়। কিন্তু ট্রাম্প সেগুলোকে এক ধরনের ক্ষত হিসেবেই দেখেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার প্রশ্ন করেছিলেন, কেন আমেরিকাকে এমন দেশগুলো রক্ষা করতে হবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত করে?
দ্বিতীয় অভিষেকের পর ট্রাম্প ওই বিশ্ব ব্যবস্থাটিকে ধ্বংসের পরিকল্পনা শুরু করেন। এর মাধ্যমে তিনি ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে নেওয়ার দাবি করেছেন এবং আমেরিকার নির্মাণ করা পানামা খাল ফেরত পাওয়ার দাবি তুলেছেন। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি গাজার সার্বভৌম ভূখণ্ড দখল করে তার ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা’ পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনঃউন্নয়ন করবেন কীভাবে, তখন তিনি উত্তর দেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে।”
কিন্তু ইউক্রেন ও এর পরিস্থিতি আরও জটিল। মাত্র ২৬ মাস আগে জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে গণতন্ত্রের যোদ্ধা হিসেবে অভ্যর্থিত হন। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হন এবং হত্যাকারী শত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হন।
ট্রাম্প ও ভান্স কয়েক মাস ধরেই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি শেষ হয়ে গেছে। তিন সপ্তাহ আগে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ইউক্রেন ছিল সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের। সেখান থেকে স্বাধীনতা পেয়ে পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং ন্যাটোতে যোগ দিতে চেয়েছিল। দেশটি একদিন রাশিয়ার হতে পারে।”

আমেরিকার মিত্রদের ঝটকা দিতে দুই সপ্তাহ আগে জেডি ভ্যান্স মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে তিনি ইউক্রেনের জন্য কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া বা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত নিয়ে কিছুই বলেননি। তিনি রাশিয়ার আগ্রাসনের জন্য কোনো মূল্য দেওয়ার বিষয়েও কোনো মন্তব্য করেননি।
এর বদলে ভান্স জার্মানির উর্ধ্বমুখী উগ্র ডানপন্থী দল এবং ইউরোপের অন্য একই ধরনের দলগুলোর প্রতি সমর্থন জানান। বাইডেন প্রশাসনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল— “যতদিন প্রয়োজন, ততদিন ইউক্রেনের পাশে থাকা হবে”— তা আর শোনা গেল না। রাশিয়া যাতে যুদ্ধ আরও পশ্চিমে না বাড়ায়, সেই প্রতিরোধের বিষয়টিও উপেক্ষিত হলো।
নিশ্চয়ই জেলেনস্কি এসব দেখেছেন। কারণ তিনিও মিউনিখ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি পরিস্থিতি ইউরোপীয় সমর্থকদের মতো করে বুঝতে পারেননি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগে থেকেই হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পকে শান্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তারা ইউরোপের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ও তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু জেলেনস্কি সে পথ না ধরে সরাসরি যুক্তিতে চলে যান, বিশেষ করে যখন ভ্যান্স ইউক্রেনের সেনা নিয়োগ প্রচেষ্টাকে উপহাস করেন।
ভান্সের কথায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলেনস্কি ট্রাম্পকে বলে বসেন, আমেরিকা ও রাশিয়ার মাঝের মহাসাগর চিরদিন সুরক্ষা দিতে পারবে না। এই কথা শুনেই ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে তার কণ্ঠস্বর চড়ান এবং জেলেনস্কিকে জানান, যুদ্ধবিরতি পেলেই তিনি সৌভাগ্যবান হবেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যেকোনো শর্তে বা শর্তহীনভাবেও সমঝোতা করা পরাজয়ের চেয়ে ভালো হবে।
জেলেনস্কি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই।” এর কয়েক মিনিট পর তিনি হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যান। তার জন্য প্রস্তুত করা রোজমেরি-মশলাযুক্ত মুরগির খাবার ও ক্রেম ব্রুলি অক্ষত রয়ে যায়। ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। পাশাপাশি রাশিয়ার সম্ভাব্য নতুন হামলা প্রতিরোধে কিয়েভের সক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চয়তা থেকে যায়।
প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনের নেতার পক্ষ নিয়ে বলেন, “ইউক্রেন পশ্চিমাদের স্বাধীনতার প্রথম সারির প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করছে, তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত।” পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়ার নেতৃত্বে কিছু পূর্ব ইউরোপীয় দেশও তার সঙ্গে একমত হয়। তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় কয়েকজন ইউরোপীয় কূটনীতিক মনে করেন, এই সঙ্কটের ক্ষতি হয়তো আর পূরণ করা সম্ভব নয়।
রাশিয়াও এই ঘটনাকে বেশ কায়দা করে উদযাপন করেছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি এ. মেদভেদেভ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি জেলেনস্কির সামনে “সত্য কথা” বলেছেন। তিনি ট্রাম্পকে অবশিষ্ট সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথম ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। রুবিও একসময় যাকে (জেলেনস্কি) আধুনিক যুগের চার্চিল হিসেবে প্রশংসা করতেন, সেই তাকেই তার ‘যোগ্য স্থান’ দেখিয়ে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
সোশাল মিডিয়ায় মার্কো রুবিও লেখেন, “ধন্যবাদ @POTUS, আমেরিকার পক্ষে এমনভাবে দাঁড়ানোর জন্য, যা কখনো কোনো প্রেসিডেন্টের সাহস ছিল না। ধন্যবাদ আমেরিকাকে প্রথম স্থানে রাখার জন্য।”
ট্রাম্পের পক্ষে পুরনো বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে ফেলে নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরি করার চেয়ে, প্রিয় স্লোগান বারংবার উচ্চারণ করা সহজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেসব আন্তর্জাতিক নিয়ম তৈরি হয়েছিল, সেগুলো গড়তে অনেক বছর লেগেছিল। যদিও এতে কিছু ত্রুটি ছিল। তবে এই ব্যবস্থা দুইটা বড় কাজ সফলভাবে করেছে: বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ এড়ানো এবং দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বাড়ানো।
নতুন বিশ্বব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে কখনও ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেছেন, তিনি আমেরিকার সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে চুক্তি করবেন। মূলত তিনি মনে করেন, শান্তি বজায় রাখা শুধুমাত্র খনিজ চুক্তি ও বাণিজ্য চুক্তি তৈরির মতো সহজ।
এমন পন্থা আগে কোথাও সফল হয়নি, বিশেষ করে যারা কঠোর শাসক, যেমন পুতিন ও শি জিনপিং। তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিকল্পনা করে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, কারণ তারা মনে করে, এসব দেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট ইচ্ছাশক্তি নেই।
কিন্তু পর্যবেক্ষরা বলছেন, শুক্রবার ওভাল অফিসের দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত যে, যতদিন তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, পৃথিবী তার নির্দেশ অনুযায়ী নিজেকে সাজিয়ে নেবে।
তথ্যসূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এ সম্পর্কিত আরও খবর:
ট্রাম্প-জেলেনস্কির বাগযুদ্ধ নিয়ে কে কী বলছেন
হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বাগযুদ্ধ, ভেস্তে গেল চুক্তি সই